
জাকারিয়া হোসেন হিমেলঃ
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে উৎসবের আমেজ। আজ মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য টানা সাত দিনের দীর্ঘ ছুটি শুরু হলো। গতকাল সোমবার ছিল চলতি সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস, যার ফলে বিকেল থেকেই রাজধানীসহ দেশের প্রধান শহরগুলো থেকে নাড়ির টানে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে। বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটগুলোতে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে এবং প্রিয়জনের কাছে ফেরার আনন্দ প্রতিটি মানুষের চোখেমুখে ফুটে উঠেছে।
এ বছরের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২১ মার্চ শনিবার বাংলাদেশে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সম্ভাব্য তারিখ বিবেচনায় নিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আগে থেকেই ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত পাঁচ দিনের ছুটি নির্ধারণ করেছিল। এর সাথে ১৭ মার্চ শবে কদরের ছুটি এবং মন্ত্রিসভার অনুমোদনে ১৮ মার্চ নির্বাহী আদেশে অতিরিক্ত ছুটি যুক্ত হওয়ায় মোট ছুটির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে সাত দিনে। মূলত ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে এবং মানুষের যাতায়াতের ভোগান্তি কমাতে সরকার এই দীর্ঘ অবকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তবে দীর্ঘ এই ছুটির আনন্দ ও অবকাশ সবার ভাগ্যে সমানভাবে জোটেনি। জনস্বার্থ ও জরুরি সেবাকে নিরবচ্ছিন্ন রাখার লক্ষ্যে বেশ কিছু খাতের কর্মীদের কর্মস্থলে উপস্থিত থাকার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও জ্বালানি সরবরাহের মতো অপরিহার্য সেবায় নিয়োজিত কর্মীরা ছুটির দিনগুলোতেও স্বাভাবিক দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া ফায়ার সার্ভিস, বন্দর কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা কর্মী, টেলিফোন ও ইন্টারনেট সেবা এবং ডাক বিভাগের কর্মীদের জন্য এই ছুটি কার্যকর হবে না। দেশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও জরুরি সেবা সচল রাখতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতের গুরুত্ব বিবেচনা করে হাসপাতাল ও জরুরি চিকিৎসাসেবা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটিও বাতিল করা হয়েছে। এমনকি জীবন রক্ষাকারী ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও এই সময়ে কর্মব্যস্ত থাকবেন। অন্যদিকে, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং আদালতের সময়সূচি নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট পৃথক নির্দেশনা প্রদান করবে। বেসরকারি শিল্প-কারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো শ্রম আইন অনুযায়ী তাদের নিজস্ব নিয়ম ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মেনে চলবে। তবে গণমাধ্যমকর্মীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নোয়াব এবার পাঁচ দিনের ছুটির ঘোষণা দিয়েছে।
পরিশেষে বলা যায়, সরকারের এই টানা ছুটির সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হলো ঈদে মানুষের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করা। বাড়তি ছুটির কারণে সড়কে ও গণপরিবহনে চাপ কিছুটা কমবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে। তবে জরুরি সেবায় নিয়োজিত হাজারো কর্মীর আত্মত্যাগ ও নিরলস পরিশ্রমের কারণেই সাধারণ মানুষ গ্রামে ফিরে নিশ্চিন্তে উৎসব উদযাপন করতে পারবে। সব মিলিয়ে এক আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়েই শুরু হতে যাচ্ছে এবারের ঈদুল ফিতরের আনুষ্ঠানিকতা।
প্রকাশক ও সম্পাদক: জাকারিয়া হোসেন হিমেল
অফিস: বোর্ড বাজার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় -১৭০৪, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন, গাজীপুর।হটলাইন:+৮৮০৯৬৭৮৫৭৫৪৩৮
ফোন: ০১৬২৬৩৬৩২০৭
জিমেইল: dirknessboy@gmail.com