
জাকারিয়া হোসেন হিমেলঃ
গাজীপুর মহানগরীর বড় বাড়ি এলাকায় এক প্রতিবন্ধী নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ধর্ষণের শিকার ওই প্রতিবন্ধী নারী তিন মাসের অন্তঃসত্তা বলে দাবি করেছেন তার বড় বোন।
ধর্ষক মোঃ ইব্রাহিম (৪৪) কে আসামি করে ধর্ষণের শিকার সুলতানা আক্তার (২০) এর বড় বোন মনিরা আক্তার বাদী হয়ে জি এম পি গাছা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধিত ২০২০) দায়ের করেছেন। আসামি ইব্রাহিম শরীয়তপুর জেলার গোসাইরহাট থানার সামন্তপুর গ্রামের হযরত আলী খানের ছেলে।বর্তমানে সে মহানগরীর বড়বাড়ি এলাকার মহিদুল ইসলাম রনির সরকারের বাড়ির ভাড়াটিয়া।
সরেজমিনে জানা যায়, বুদ্ধি প্রতিবন্ধী সুলতানা আক্তার তার বড় বোন মনিরা আক্তারের সাথে গাজীপুর মহানগরের বড়বাড়ি এলাকায় মোঃ জালালউদ্দিন সরকারের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিল। তারা নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার মোঃ চান মিয়ার মেয়ে। বড় বোন মনিরা আক্তার বড় বাড়ির বোর্ডবাজার এলাকায় স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। ছোট বোন সুলতানা আক্তার বাসায় থেকে তার দুই সন্তানের দেখাশোনা করেন। মামলার বাদী জানায়, ইব্রাহিম আমাদের বাসার সামনে ফলের ব্যবসা করেন। ফল কেনার সুবাদে আমাদের সাথে তার পরিচয় হলে সে নিয়মিত আমাদের বাসায় আসা যাওয়া করত। গেল ১৮-১২-২০২৩ ইং তারিখে সে আমাদের বাসায় এসে আমার বোনকে একা পেয়ে ঘরের ভিতরে ঢুকে ভিতর থেকে দরজা বন্ধ করে দিয়ে দেয়। এ সময় জোরপূর্বক কয়েকবার আমার বোনকে ধর্ষণ করে। এরপর থেকে একাধিকবার গোপনে আমার বোনকে নানা প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করে। গেল দুদিন পূর্বে আমার বোনের নিয়মিত মাসিক বন্ধ থাকলে, আমি সেটার কারণ জিজ্ঞেস করি। অতঃপর একাধিক বার জিজ্ঞেস করার পর আমার বোন কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। অবশেষে সে বিস্তারিত ঘটনা আমাকে খুলে বলে। পরবর্তীতে আমি জিএমপি গাছা থানায় হাজির হয়ে ইব্রাহিম কে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করি। মামলা দায়েরের পর জিএমপি গাছা থানা পুলিশ ইব্রাহিমকে আটক করে আদালতে প্রেরণ করে। ভিকটিমের বড় বোন আমাদেরকে জানায়, পুলিশের জরুরি পদক্ষেপে আমরা সন্তুষ্ট। আশা করি আইনের মাধ্যমে ধর্ষকের উপযুক্ত বিচার হবে। বড় বোন আরো বলেন, আমার বাড়ির মালিক রনি সহ এলাকার কিছু লোকজন টাকা পয়সা দিয়ে বিহিত করতে চেয়েছিল, এবং পুরো বিষয়টি স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি জালাল সরকারকে বলেছিলাম, তিনি আমাকে এই বলে আশ্বাস দেন যে, বিষয় টি ৩/৪ দিনের ভিতরে সবাইকে নিয়ে বসে সঠিক বিচার করে দিবেন।
এ বিষয়ে জিএমপি গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি শাহ আলম জানান, এই ঘটনাটি অবহিত হওয়ার পর আমরা ইতিমধ্যেই আসামিকে গ্রেফতার করেছি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে আমাদের নিকট ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। ভিকটিমকে আমরা শহীদ তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজে ডিএনও রিপোর্টের জন্য পাঠিয়েছি, আমরা বিচারের সম্মুখীন করার জন্য আসামি কে আদালতে প্রেরণ করেছি।
প্রকাশক ও সম্পাদক: জাকারিয়া হোসেন হিমেল
অফিস: বোর্ড বাজার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় -১৭০৪, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন, গাজীপুর।হটলাইন:+৮৮০৯৬৭৮৫৭৫৪৩৮
ফোন: ০১৬২৬৩৬৩২০৭
জিমেইল: dirknessboy@gmail.com