জাকারিয়া হোসেন হিমেলঃ
নানা বিতর্কে আলোচনায় থাকা গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের জায়গা হয়নি মহানগর আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে। তবে এ কমিটি নিয়ে সমালোচনা করেছেন বাদ পড়া জাহাঙ্গীর আলম।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশক্রমে সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাক্ষরিত পত্রে বুধবার (৩ জুলাই) ৭৫ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটির (২০২২-২০২৫) অনুমোদন দেওয়া হয়। কমিটিতে গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আজমত উল্লা খানকে সভাপতি ও আতা উল্যাহ মন্ডলকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।
এ কমিটিতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল ও মেহের আফরোজ চুমকি এবং কাজী আলিম উদ্দিন, অধ্যাপক এম এ বারী, ওয়াজ উদ্দিন মিয়া, মো. আবদুর রউফসহ ৩৬ জনকে মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে।
এছাড়া কমিটির সহসভাপতি করা হয়েছে সামসুন নাহার ভূঁইয়া, মতিউর রহমান, আবদুল হাদী, রেজাউল করিম ভূঁইয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন, ওসমান আলী, আসাদুর রহমান, সফর উদ্দিন খান, শেখ মো. আসাদুল্লাহ, হেদায়েতুল ইসলাম ও মো. আবদুল আলীম মোল্লাকে। কমিটির অন্যান্য পদের নেতারা হলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন সরকার, কাজী ইলিয়াস আহমেদ ও এ বি এম নাসির উদ্দিন।
জাহাঙ্গীর আলম বলেন,কোন রকম আলোচনা ছাড়াই আজমত উল্লাহ খান নিজের মত কমিটি করেছে। দলটাকে পরিবারতন্ত্র বানিয়ে ফেলেছে। যারা দলের দুর্দিনে ত্যাগী পরীক্ষিত তাদের কমিটিতে রাখা হয়নি। শুধু তাই না; তিনি অভিযোগ করে বলেন,গাজীপুরের ভোটার না এমন লোকদেরও কমিটিতে দেয়া হয়েছে। এই কমিটি আগামীতে দলকে ভোগাবে।
কমিটিতে আরও রয়েছেন- আইনবিষয়ক সম্পাদক খালেদ হোসেন, কৃষি ও সমবায়বিষয়ক সম্পাদক নাসির উদ্দিন মোল্লা, তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক ফজলুর রহমান, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, দফতর সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মওলানা আক্তার হোসেন গাজীপুরী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুল হালিম সরকার, বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক সাইজ উদ্দিন মোল্লা, বিজ্ঞান ও প্রযুত্তিবিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ উল্লাহ, মহিলাবিষয়ক সম্পাদক হোসনে আরা, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. খালেকুজ্জামান, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক হীরা সরকার, শিক্ষা ও মানবসম্পদবিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান, শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক মো. বাছির উদ্দিন এবং শ্রমবিষয়ক সম্পাদক মো. সোলায়মান মিয়া।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয় ২০২২ সালের ১৯ নভেম্বর। সেসময় আজমত উল্লা খানকে সভাপতি আর সাধারণ সম্পাদক করা হয় আতা উল্যাহ মন্ডলকে। বিভিন্ন সময় বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে জাহাঙ্গীর দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর সাধারণ সম্পাদক পদে বসেন আতা উল্যাহ মন্ডল।
২০২২ সালের ১৯ নভেম্বর ভাওয়াল রাজবাড়ী মাঠে সম্মেলন শেষে মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ পদে আজমত উল্ল্যাহ খান ও আতা উল্লা মন্ডলের নাম ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। পরে জাহাঙ্গীর আলমকে দলে ফিরিয়ে আনেন ওবায়দুল কাদের। বিষয়টি পত্রের মাধ্যমেও জানানো হয়। দীর্ঘদিন পর গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হলেও এবার সদস্য হিসেবেও জাহাঙ্গীর আলমকে রাখা হয়নি।
এ বিষয়ে আতা উল্যাহ মন্ডল বলেন, দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কমিটি দিয়েছে কেন্দ্র। জাহাঙ্গীর আলমকে বহিষ্কার করা হয়েছিল আজীবনের জন্য, আবার তাকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ফিরে এসে তিনি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝামেলা করেছেন। তাকে কেন কমিটিতে নেয়া হবে?
প্রকাশক ও সম্পাদক: জাকারিয়া হোসেন হিমেল
অফিস: বোর্ড বাজার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় -১৭০৪, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন, গাজীপুর।হটলাইন:+৮৮০৯৬৭৮৫৭৫৪৩৮
ফোন: ০১৬২৬৩৬৩২০৭
জিমেইল: dirknessboy@gmail.com