২৭শে রজবের আমল ও ফযিলত
- আপডেট সময় : ০২:৪১:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিবেদনঃ
২৭শে রজবের আমল ও ফযিলত
নবিজী ﷺ’–এর ৩টি হাদিস শরীফ (রেফারেন্সসহ)
১। ‘রজবে এমন একটি দিন ও রাত রয়েছে, যে ব্যক্তি সে দিনে রোযা রাখবে এবং রাতে কিয়াম (অর্থাৎ ইবাদত) করবে—তবে সে যেন শত বছরের রোযা রাখল। আর তা হলো ২৭শে রজব।’¹
২। ‘যে ব্যক্তি রজবের ২৭তম দিনে রোযা রাখবে—আল্লাহ পাক তার জন্য ষাট (৬০) মাসের রোযার সাওয়াব লিখে দিবেন।’²
৩। ‘রজবে এমন একটি রাত রয়েছে, যেটাতে নেক আমলকারীদের জন্য ১০০ বছরের সাওয়াব লিখে দেয়া হয়—আর তা হলো রজবের ২৭তম রাত। যে ব্যক্তি এতে ১২ রাকাত নফল নামায এমনভাবে পড়বে যে, প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহার পর যেকোন সূরা এবং প্রতি দুই রাকাতে আত্তাহিয়্যাত পড়বে, এবং ১২ রাকাত সম্পন্ন হওয়ার পর সালাম ফিরাবে। এরপর ১০০ বার—
« سُبْحَانَ اللّٰهِ وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللّٰهُ وَاللّٰهُ أَكْبَرُ »
পাঠ করবে। এরপর ১০০ বার ইস্তিগফার, ১০০ বার দরূদ শরীফ পাঠ করবে এবং নিজের দুনিয়া ও আখিরাতের ব্যাপারে যা ইচ্ছা দোয়া করবে। আর সকালে রোযা রাখবে। তবে আল্লাহ পাক তার সকল দোয়া কবুল করবেন—শুধুমাত্র গুনাহের দোয়া ব্যতীত।’³
-২৭শে রজবের আমল
ক) ২৭শে রজবের দিনের আমল
নফল রোযা রাখুন।
ইফতারের আগে ও পরে ইস্তিগফার, দরূদ এবং দোয়া বেশি করুন।
খ) ২৭তম রাতের আমল (নফল নামায)
১২ রাকাত নফল নামায পড়ুন (২ রাকাত করে পড়া সুবিধাজনক)।
প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহার পর যেকোনো একটি সূরা পড়ুন।
প্রতি দুই রাকাত শেষে আত্তাহিয়্যাত পড়ুন।
১২ রাকাত শেষ হলে সালাম ফিরান।
গ) সালামের পর যিকির ও দোয়া
১০০ বার পড়ুন:
« سُبْحَانَ اللّٰهِ وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللّٰهُ وَاللّٰهُ أَكْبَرُ »
উচ্চারণ: সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদু লিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার
অর্থ: আল্লাহ পবিত্র, সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আর আল্লাহ মহান।
এরপর ১০০ বার ইস্তিগফার পড়ুন।
এরপর ১০০ বার দরূদ শরীফ পড়ুন।
এরপর নিজের দুনিয়া ও আখিরাতের প্রয়োজন অনুযায়ী মন খুলে দোয়া করুন
ঘ) পরদিন সকালের আমল
সামর্থ্য হলে সকালে নফল রোযা রাখুন।
©Ekram Hossain – ইকরাম হোসাইন
—
১. (শুয়াবুল ঈমান, ৩/৩৭৪, হাদীস: ৩৮১১)
২. (ফাযায়িলে শাহরে রজব লিলখাল্লাল: ৭৬)
৩. (শুয়াবুল ঈমান, ৩/৩৭৪, হাদীস: ৩৮১২)
★একটি কথা শুধু বিনয়ের সঙ্গে মনে করিয়ে দিতে চাই—এ পোস্টটি তর্ক বা মতবিরোধ তৈরির জন্য নয়। আমরা সকলেই আল্লাহর সন্তুষ্টিই চাই।
২৭শে রজব সম্পর্কে যে বর্ণনাগুলো পাওয়া যায়—
সেগুলো শক্ত দলিল হিসেবে নয়, বরং নফল ইবাদতের উৎসাহ হিসেবে এসেছে। এ কারণে উলামায়ে কিরাম বলেছেন—
➡️ যারা ইবাদত করতে চান, তারা নফল হিসেবে করতে পারেন।
➡️ আর যারা করতে চান না, তাদের জন্যও এতে কোনো অসুবিধা নেই।
এটা এমন কোনো বিষয় নয়, যাকে নিয়ে পরস্পরের সঙ্গে বিরূপ আচরণ বা তর্ক করা উচিত।
আমাদের উদ্দেশ্য শুধু—সুন্নাহর সীমার মধ্যে থেকেই আল্লাহর দিকে ফিরে আসা।
আসুন, সবাই হিকমত, নরম আচরণ আর সম্মান নিয়ে আলোচনা করি।
আল্লাহ আমাদের সকলকে সঠিক বুঝ এবং শান্ত হৃদয় দান করুন।

















