ঢাকা ০৯:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাউবির এমএসএস প্রোগ্রামে প্রথমবারের মতো তৃতীয় লিঙ্গের শিক্ষার্থীর ডিগ্রি অর্জন গাজীপুরের গাছায় দারুল হেদায়া কওমী মাদ্রাসার ৬ ছাত্রকে বলাৎকার শিক্ষক ও পরিচালক গ্রেপ্তার মক্কায় মসজিদে ‘অনৈতিক কাজ’, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ২ বাংলাদেশির নাম প্রকাশ চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বিশিষ্ট সমাজ সেবক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন টঙ্গীতে মাদকের বিস্তার, বাড়ছে ছিনতাই-অস্ত্রের ব্যবহার ৯ মাসে ৪০২ মামলা, গ্রেপ্তার ৯৫৬; অভিযানের পরও থামছে না অপরাধ গাজীপুরে গণমাধ্যমকর্মীকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি বিআরটিএতে ‘প্রভাবশালী’ মোটরযান পরিদর্শক খ্যাত মামুনুর রশিদ এর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ গাজীপুর মহানগরেতে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী, নির্বিকার সিটি কর্পোরেশন রাজধানীতে নারী থেকে পুরুষ হওয়ার স্বপ্নে অপারেশনের পর মৃত্যু হয় লিজার গাজীপুর টঙ্গীতে মাদক নির্মূলের নামে বস্তি উচ্ছেদের অভিযোগ, বস্তিবাসীর বিক্ষোভ

সস্তা ড্রোনের মারপ্যাঁচে কুপোকাত দামী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৪৪:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬ ২২৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জাকারিয়া হোসেন হিমেলঃ

ইরানের তৈরি সস্তা ড্রোনের আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলো এখন ভয়াবহ আর্থিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের মতো মার্কিন মিত্র দেশগুলো ইরানের এই স্বল্পমূল্যের প্রযুক্তির কাছে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে। মূলত যুদ্ধের ময়দানে শাহেদ সিরিজের ড্রোনগুলোর ব্যবহার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রচলিত হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিয়েছে।

​একটি শাহেদ-১৩৬ ড্রোন তৈরি করতে ইরান খরচ করে মাত্র ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার ডলার। অথচ এই একটি ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করতে যে ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়, তার একেকটির বাজারমূল্য প্রায় ২০ লাখ ডলার। এই বিশাল আর্থিক বৈষম্য প্রতিরক্ষা বাহিনীগুলোর জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে সামান্য মূল্যের আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে তাদের বিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে হচ্ছে।

​প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই অসম যুদ্ধের বাস্তব চিত্র সম্প্রতি বাহরাইনে ফুটে উঠেছে। মাত্র ৩০ হাজার ডলার মূল্যের একটি সাধারণ ইরানি ড্রোন ধ্বংস করে দিয়েছে প্রায় ৩০ কোটি ডলার মূল্যের একটি অত্যাধুনিক ৩৬০ ডিগ্রি নজরদারি রাডার সাইট। ২০০৪ সাল থেকে কার্যকর এই রাডারটি বিমান ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্তের প্রাথমিক সতর্কতা ব্যবস্থা হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

​কিংস কলেজ লন্ডনের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিভাগের প্রভাষক গেইস্ট পিনফোল্ড জানান, শাহেদ ড্রোনগুলো অত্যন্ত সস্তা এবং সহজে তৈরিযোগ্য হলেও এগুলো প্রতিহত করা কয়েক গুণ বেশি ব্যয়বহুল। আত্মঘাতী এই ড্রোনগুলোর মুখে উপসাগরীয় দেশগুলোর ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। পিনফোল্ডের মতে, এই সংকট নিরসনে দেশগুলোর সামনে এখন দুটি পথ খোলা আছে—হয় সরাসরি যুদ্ধবিরতিতে যাওয়া, অথবা বিদ্যমান প্রতিরক্ষা কৌশলে আমূল পরিবর্তন এনে আরও সক্রিয় পদ্ধতিতে অগ্রসর হওয়া।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

সস্তা ড্রোনের মারপ্যাঁচে কুপোকাত দামী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা

আপডেট সময় : ০২:৪৪:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

জাকারিয়া হোসেন হিমেলঃ

ইরানের তৈরি সস্তা ড্রোনের আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলো এখন ভয়াবহ আর্থিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের মতো মার্কিন মিত্র দেশগুলো ইরানের এই স্বল্পমূল্যের প্রযুক্তির কাছে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে। মূলত যুদ্ধের ময়দানে শাহেদ সিরিজের ড্রোনগুলোর ব্যবহার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রচলিত হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিয়েছে।

​একটি শাহেদ-১৩৬ ড্রোন তৈরি করতে ইরান খরচ করে মাত্র ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার ডলার। অথচ এই একটি ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করতে যে ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়, তার একেকটির বাজারমূল্য প্রায় ২০ লাখ ডলার। এই বিশাল আর্থিক বৈষম্য প্রতিরক্ষা বাহিনীগুলোর জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে সামান্য মূল্যের আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে তাদের বিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে হচ্ছে।

​প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই অসম যুদ্ধের বাস্তব চিত্র সম্প্রতি বাহরাইনে ফুটে উঠেছে। মাত্র ৩০ হাজার ডলার মূল্যের একটি সাধারণ ইরানি ড্রোন ধ্বংস করে দিয়েছে প্রায় ৩০ কোটি ডলার মূল্যের একটি অত্যাধুনিক ৩৬০ ডিগ্রি নজরদারি রাডার সাইট। ২০০৪ সাল থেকে কার্যকর এই রাডারটি বিমান ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্তের প্রাথমিক সতর্কতা ব্যবস্থা হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

​কিংস কলেজ লন্ডনের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিভাগের প্রভাষক গেইস্ট পিনফোল্ড জানান, শাহেদ ড্রোনগুলো অত্যন্ত সস্তা এবং সহজে তৈরিযোগ্য হলেও এগুলো প্রতিহত করা কয়েক গুণ বেশি ব্যয়বহুল। আত্মঘাতী এই ড্রোনগুলোর মুখে উপসাগরীয় দেশগুলোর ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। পিনফোল্ডের মতে, এই সংকট নিরসনে দেশগুলোর সামনে এখন দুটি পথ খোলা আছে—হয় সরাসরি যুদ্ধবিরতিতে যাওয়া, অথবা বিদ্যমান প্রতিরক্ষা কৌশলে আমূল পরিবর্তন এনে আরও সক্রিয় পদ্ধতিতে অগ্রসর হওয়া।