ঢাকা ০৯:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাউবির এমএসএস প্রোগ্রামে প্রথমবারের মতো তৃতীয় লিঙ্গের শিক্ষার্থীর ডিগ্রি অর্জন গাজীপুরের গাছায় দারুল হেদায়া কওমী মাদ্রাসার ৬ ছাত্রকে বলাৎকার শিক্ষক ও পরিচালক গ্রেপ্তার মক্কায় মসজিদে ‘অনৈতিক কাজ’, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ২ বাংলাদেশির নাম প্রকাশ চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বিশিষ্ট সমাজ সেবক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন টঙ্গীতে মাদকের বিস্তার, বাড়ছে ছিনতাই-অস্ত্রের ব্যবহার ৯ মাসে ৪০২ মামলা, গ্রেপ্তার ৯৫৬; অভিযানের পরও থামছে না অপরাধ গাজীপুরে গণমাধ্যমকর্মীকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি বিআরটিএতে ‘প্রভাবশালী’ মোটরযান পরিদর্শক খ্যাত মামুনুর রশিদ এর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ গাজীপুর মহানগরেতে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী, নির্বিকার সিটি কর্পোরেশন রাজধানীতে নারী থেকে পুরুষ হওয়ার স্বপ্নে অপারেশনের পর মৃত্যু হয় লিজার গাজীপুর টঙ্গীতে মাদক নির্মূলের নামে বস্তি উচ্ছেদের অভিযোগ, বস্তিবাসীর বিক্ষোভ

টঙ্গীতে মাদকের বিস্তার, বাড়ছে ছিনতাই-অস্ত্রের ব্যবহার ৯ মাসে ৪০২ মামলা, গ্রেপ্তার ৯৫৬; অভিযানের পরও থামছে না অপরাধ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:০২:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬ ৪৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জাকারিয়া হোসেন হিমেলঃ
মাদক কারবার ঠেকাতে একের পর এক অভিযান, গ্রেপ্তার শত শত আসামি, উদ্ধার হচ্ছে মাদক ও দেশীয় অস্ত্র। তারপরও গাজীপুরের টঙ্গীতে থামছে না মাদক ও ছিনতাই। মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে অপরাধীচক্রের মধ্যে বিরোধ, অস্ত্রের ব্যবহার ও হামলার অভিযোগ সামনে আসছে। পুলিশের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে টঙ্গীর পূর্ব ও পশ্চিম থানায় মাদক ও ছিনতাই-ডাকাতির ৪০২টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৯৫৬ জনকে।

পুলিশের তথ্য মতে, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টঙ্গী পূর্ব থানায় ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ৫৬টি এবং মাদকসংক্রান্ত ১৪৬টি মামলা হয়েছে। এসব মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন ৫৩৩ জন। একই সময়ে টঙ্গী পশ্চিম থানায় ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ৪০টি এবং মাদকসংক্রান্ত ১৬৬টি মামলা হয়েছে।

মামলা ও গ্রেপ্তারের এই পরিসংখ্যানের পরও মাদক কারবার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসায় প্রশ্ন উঠেছে অপরাধের মূল উৎস নিয়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, টঙ্গীর বস্তি, রেললাইনসংলগ্ন এলাকা, শিল্পকারখানার আশপাশ এবং ঘনবসতিপূর্ণ বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদকের কারবার চলছে। মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্যকে কেন্দ্র করে একাধিক পক্ষের মধ্যে বিরোধও তৈরি হচ্ছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, মাদকের কারবার এখন শুধু সেবন ও বিক্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এর সঙ্গে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, অস্ত্রের ব্যবহার ও সংঘর্ষের মতো অপরাধের যোগসূত্র তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় রেললাইন, স্টেশনসংলগ্ন এলাকা ও নির্জন সড়কে ছিনতাইয়ের আতঙ্কে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে হচ্ছে।

হত্যাকাণ্ডেও মাদকের যোগসূত্রের অভিযোগ
সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনাকে ঘিরে মাদক ও অপরাধীচক্রের বিরোধের অভিযোগ নতুন করে সামনে এসেছে। গোপালপুর এলাকায় নূরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে আলেকেরটেক এলাকায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা ও দুই পায়ের রগ কেটে হত্যার অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ এ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকতে পারে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।

এ ছাড়া টঙ্গীর ব্যাংকের মাঠ এলাকায় রেলস্টেশনের সামনে এক যুবক নিহত হওয়ার ঘটনাতেও স্থানীয়ভাবে মাদক ও অপরাধীচক্রের বিরোধের বিষয়টি আলোচনায় আসে। তবে এ ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

উদ্ধার হচ্ছে অস্ত্র, হামলা পুলিশের ওপরও
মাদকবিরোধী অভিযানে হাজী মাজার বস্তি, এরশাদনগরসহ টঙ্গীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়েছে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এসব অভিযানে মাদক ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সম্প্রতি একটি হত্যা মামলার তদন্তে টঙ্গীর একটি বাড়ি থেকে সাতটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের কথাও জানিয়েছে পুলিশ।

অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বাধার মুখে পড়ার ঘটনাও ঘটছে। গত সেপ্টেম্বর টঙ্গী রেলস্টেশন এলাকায় পুলিশের ওপর হামলা করে হাতকড়াসহ এক আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে অপরাধীচক্রের প্রভাব ও সাহস নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু মাদকসেবী ও খুচরা বিক্রেতাদের গ্রেপ্তার করে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। মাদকের মূল সরবরাহকারী, অর্থের জোগানদাতা, পরিবহনকারী এবং স্থানীয় পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত করা জরুরি। একই সঙ্গে মাদক কারবারের অর্থের সঙ্গে ছিনতাই ও অস্ত্রধারী চক্রের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অপরাধ দক্ষিণ বিভাগের উপ-কমিশনার শফিকুল ইসলাম খান বলেন, মাদকদ্রব্য ও সন্ত্রাস দমনে নিয়মিত অভিযান চলছে। মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। হাজী মাজার বস্তিসহ বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

টঙ্গীতে মাদকের বিস্তার, বাড়ছে ছিনতাই-অস্ত্রের ব্যবহার ৯ মাসে ৪০২ মামলা, গ্রেপ্তার ৯৫৬; অভিযানের পরও থামছে না অপরাধ

আপডেট সময় : ০৫:০২:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

জাকারিয়া হোসেন হিমেলঃ
মাদক কারবার ঠেকাতে একের পর এক অভিযান, গ্রেপ্তার শত শত আসামি, উদ্ধার হচ্ছে মাদক ও দেশীয় অস্ত্র। তারপরও গাজীপুরের টঙ্গীতে থামছে না মাদক ও ছিনতাই। মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে অপরাধীচক্রের মধ্যে বিরোধ, অস্ত্রের ব্যবহার ও হামলার অভিযোগ সামনে আসছে। পুলিশের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে টঙ্গীর পূর্ব ও পশ্চিম থানায় মাদক ও ছিনতাই-ডাকাতির ৪০২টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৯৫৬ জনকে।

পুলিশের তথ্য মতে, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টঙ্গী পূর্ব থানায় ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ৫৬টি এবং মাদকসংক্রান্ত ১৪৬টি মামলা হয়েছে। এসব মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন ৫৩৩ জন। একই সময়ে টঙ্গী পশ্চিম থানায় ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ৪০টি এবং মাদকসংক্রান্ত ১৬৬টি মামলা হয়েছে।

মামলা ও গ্রেপ্তারের এই পরিসংখ্যানের পরও মাদক কারবার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসায় প্রশ্ন উঠেছে অপরাধের মূল উৎস নিয়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, টঙ্গীর বস্তি, রেললাইনসংলগ্ন এলাকা, শিল্পকারখানার আশপাশ এবং ঘনবসতিপূর্ণ বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদকের কারবার চলছে। মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্যকে কেন্দ্র করে একাধিক পক্ষের মধ্যে বিরোধও তৈরি হচ্ছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, মাদকের কারবার এখন শুধু সেবন ও বিক্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এর সঙ্গে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, অস্ত্রের ব্যবহার ও সংঘর্ষের মতো অপরাধের যোগসূত্র তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় রেললাইন, স্টেশনসংলগ্ন এলাকা ও নির্জন সড়কে ছিনতাইয়ের আতঙ্কে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে হচ্ছে।

হত্যাকাণ্ডেও মাদকের যোগসূত্রের অভিযোগ
সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনাকে ঘিরে মাদক ও অপরাধীচক্রের বিরোধের অভিযোগ নতুন করে সামনে এসেছে। গোপালপুর এলাকায় নূরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে আলেকেরটেক এলাকায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা ও দুই পায়ের রগ কেটে হত্যার অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ এ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকতে পারে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।

এ ছাড়া টঙ্গীর ব্যাংকের মাঠ এলাকায় রেলস্টেশনের সামনে এক যুবক নিহত হওয়ার ঘটনাতেও স্থানীয়ভাবে মাদক ও অপরাধীচক্রের বিরোধের বিষয়টি আলোচনায় আসে। তবে এ ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

উদ্ধার হচ্ছে অস্ত্র, হামলা পুলিশের ওপরও
মাদকবিরোধী অভিযানে হাজী মাজার বস্তি, এরশাদনগরসহ টঙ্গীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়েছে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এসব অভিযানে মাদক ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সম্প্রতি একটি হত্যা মামলার তদন্তে টঙ্গীর একটি বাড়ি থেকে সাতটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের কথাও জানিয়েছে পুলিশ।

অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বাধার মুখে পড়ার ঘটনাও ঘটছে। গত সেপ্টেম্বর টঙ্গী রেলস্টেশন এলাকায় পুলিশের ওপর হামলা করে হাতকড়াসহ এক আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে অপরাধীচক্রের প্রভাব ও সাহস নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু মাদকসেবী ও খুচরা বিক্রেতাদের গ্রেপ্তার করে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। মাদকের মূল সরবরাহকারী, অর্থের জোগানদাতা, পরিবহনকারী এবং স্থানীয় পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত করা জরুরি। একই সঙ্গে মাদক কারবারের অর্থের সঙ্গে ছিনতাই ও অস্ত্রধারী চক্রের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অপরাধ দক্ষিণ বিভাগের উপ-কমিশনার শফিকুল ইসলাম খান বলেন, মাদকদ্রব্য ও সন্ত্রাস দমনে নিয়মিত অভিযান চলছে। মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। হাজী মাজার বস্তিসহ বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।