ঢাকা ০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাউবির এমএসএস প্রোগ্রামে প্রথমবারের মতো তৃতীয় লিঙ্গের শিক্ষার্থীর ডিগ্রি অর্জন গাজীপুরের গাছায় দারুল হেদায়া কওমী মাদ্রাসার ৬ ছাত্রকে বলাৎকার শিক্ষক ও পরিচালক গ্রেপ্তার মক্কায় মসজিদে ‘অনৈতিক কাজ’, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ২ বাংলাদেশির নাম প্রকাশ চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বিশিষ্ট সমাজ সেবক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন টঙ্গীতে মাদকের বিস্তার, বাড়ছে ছিনতাই-অস্ত্রের ব্যবহার ৯ মাসে ৪০২ মামলা, গ্রেপ্তার ৯৫৬; অভিযানের পরও থামছে না অপরাধ গাজীপুরে গণমাধ্যমকর্মীকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি বিআরটিএতে ‘প্রভাবশালী’ মোটরযান পরিদর্শক খ্যাত মামুনুর রশিদ এর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ গাজীপুর মহানগরেতে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী, নির্বিকার সিটি কর্পোরেশন রাজধানীতে নারী থেকে পুরুষ হওয়ার স্বপ্নে অপারেশনের পর মৃত্যু হয় লিজার গাজীপুর টঙ্গীতে মাদক নির্মূলের নামে বস্তি উচ্ছেদের অভিযোগ, বস্তিবাসীর বিক্ষোভ

গাজীপুরের গাছায় দারুল হেদায়া কওমী মাদ্রাসার ৬ ছাত্রকে বলাৎকার শিক্ষক ও পরিচালক গ্রেপ্তার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৭:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মোঃ জাকারিয়া হোসেন হিমেলঃ

গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানাধীন কলমেশ্বর এলাকায় দারুল হেদায়া কওমী কওমি মাদ্রাসার ছয় আবাসিক শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের পৈশাচিক অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত শিক্ষক এবং ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে মাদ্রাসার পরিচালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আজ (বৃহস্পতিবার) মামলা রুজুর বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী এক শিশুর মায়ের দায়ের করা এজাহারের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, কলমেশ্বর এলাকার ‘দারুল হেদায়া কওমী মাদ্রাসা’র আবাসিক বিভাগের ৭ বছর বয়সী এক ছাত্রকে গত ১০, ১১ ও ১২ অক্টোবর রাতের বিভিন্ন সময়ে ভয়ভীতি ও প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার বলাৎকার করেন শিক্ষক মো. অলিউল্লাহ ইসলাম (২৩)। শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে ঘটনাটি তার পরিবারকে জানায়। পরবর্তীতে অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে পরিবার জানতে পারে, অভিযুক্ত ওই শিক্ষক একইভাবে মাদ্রাসার আরও অন্তত পাঁচজন শিশুর সঙ্গে এই জঘন্য আচরণ করেছেন।

স্বজনদের অভিযোগ, বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর মাদ্রাসার পরিচালক মোহাম্মদ মিজান এবং স্থানীয় প্রভাবশালী মো. আব্দুল কুদ্দুস শেখ আইনি পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা চালান এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে ভয়ভীতি দেখান। পরে বাধ্য হয়ে পরিবার গাছা থানায় উপস্থিত হয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।
মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন—১. মো. অলিউল্লাহ ইসলাম (২৩), পিতা: মো. আব্দুল কুদ্দুস শেখ (গ্রেপ্তারকৃত); ২. মোহাম্মদ মিজান (৩৮) [মাদ্রাসার পরিচালক], পিতা: লাল মিয়া (গ্রেপ্তারকৃত); এবং ৩. মো. আব্দুল কুদ্দুস শেখ (৪২), পিতা: মো. হারান শেখ।
গাছা থানার কর্মকর্তা জানান, এজাহার পাওয়ার পরপরই অভিযান চালিয়ে ১ ও ২ নম্বর আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শিশুদের সুরক্ষার স্বার্থে এবং শিশু নির্যাতনের মতো সংবেদনশীল অপরাধ গোপন করার চেষ্টার সাথে জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

গাজীপুরের গাছায় দারুল হেদায়া কওমী মাদ্রাসার ৬ ছাত্রকে বলাৎকার শিক্ষক ও পরিচালক গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০৩:৪৭:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

মোঃ জাকারিয়া হোসেন হিমেলঃ

গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানাধীন কলমেশ্বর এলাকায় দারুল হেদায়া কওমী কওমি মাদ্রাসার ছয় আবাসিক শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের পৈশাচিক অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত শিক্ষক এবং ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে মাদ্রাসার পরিচালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আজ (বৃহস্পতিবার) মামলা রুজুর বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী এক শিশুর মায়ের দায়ের করা এজাহারের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, কলমেশ্বর এলাকার ‘দারুল হেদায়া কওমী মাদ্রাসা’র আবাসিক বিভাগের ৭ বছর বয়সী এক ছাত্রকে গত ১০, ১১ ও ১২ অক্টোবর রাতের বিভিন্ন সময়ে ভয়ভীতি ও প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার বলাৎকার করেন শিক্ষক মো. অলিউল্লাহ ইসলাম (২৩)। শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে ঘটনাটি তার পরিবারকে জানায়। পরবর্তীতে অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে পরিবার জানতে পারে, অভিযুক্ত ওই শিক্ষক একইভাবে মাদ্রাসার আরও অন্তত পাঁচজন শিশুর সঙ্গে এই জঘন্য আচরণ করেছেন।

স্বজনদের অভিযোগ, বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর মাদ্রাসার পরিচালক মোহাম্মদ মিজান এবং স্থানীয় প্রভাবশালী মো. আব্দুল কুদ্দুস শেখ আইনি পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা চালান এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে ভয়ভীতি দেখান। পরে বাধ্য হয়ে পরিবার গাছা থানায় উপস্থিত হয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।
মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন—১. মো. অলিউল্লাহ ইসলাম (২৩), পিতা: মো. আব্দুল কুদ্দুস শেখ (গ্রেপ্তারকৃত); ২. মোহাম্মদ মিজান (৩৮) [মাদ্রাসার পরিচালক], পিতা: লাল মিয়া (গ্রেপ্তারকৃত); এবং ৩. মো. আব্দুল কুদ্দুস শেখ (৪২), পিতা: মো. হারান শেখ।
গাছা থানার কর্মকর্তা জানান, এজাহার পাওয়ার পরপরই অভিযান চালিয়ে ১ ও ২ নম্বর আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শিশুদের সুরক্ষার স্বার্থে এবং শিশু নির্যাতনের মতো সংবেদনশীল অপরাধ গোপন করার চেষ্টার সাথে জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।