ঢাকা ০৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাউবির এমএসএস প্রোগ্রামে প্রথমবারের মতো তৃতীয় লিঙ্গের শিক্ষার্থীর ডিগ্রি অর্জন গাজীপুরের গাছায় দারুল হেদায়া কওমী মাদ্রাসার ৬ ছাত্রকে বলাৎকার শিক্ষক ও পরিচালক গ্রেপ্তার মক্কায় মসজিদে ‘অনৈতিক কাজ’, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ২ বাংলাদেশির নাম প্রকাশ চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বিশিষ্ট সমাজ সেবক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন টঙ্গীতে মাদকের বিস্তার, বাড়ছে ছিনতাই-অস্ত্রের ব্যবহার ৯ মাসে ৪০২ মামলা, গ্রেপ্তার ৯৫৬; অভিযানের পরও থামছে না অপরাধ গাজীপুরে গণমাধ্যমকর্মীকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি বিআরটিএতে ‘প্রভাবশালী’ মোটরযান পরিদর্শক খ্যাত মামুনুর রশিদ এর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ গাজীপুর মহানগরেতে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী, নির্বিকার সিটি কর্পোরেশন রাজধানীতে নারী থেকে পুরুষ হওয়ার স্বপ্নে অপারেশনের পর মৃত্যু হয় লিজার গাজীপুর টঙ্গীতে মাদক নির্মূলের নামে বস্তি উচ্ছেদের অভিযোগ, বস্তিবাসীর বিক্ষোভ

বাংলা ১৩০৪ সালের ভীষণ ভূমিকম্প এর স্বরণ দিবস

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৩১:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জুন ২০২৩ ৬৩৮ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

জাকারিয়া হোসেন হিমেলঃ

বাংলা ১৩০৪ সালের ভীষণ ভূমিকম্প এর স্বরণ দিবস। ১২ জুন, ১৮৯৭ সালের সেই ভীষণ ভূমিকম্প আজও স্বরণ করে দেয় বৃহত্তর ময়মনসিংহবাসীকে। এই ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৮.২- ৮.৩। ১৮৯৭ সালের ১২ই জুন এটি শিলং প্ল্যাটুতে আঘাত হানে। এটা গ্রেট ইন্ডিয়ান আর্থকোয়েক নামে পরিচিত। এটার ঝাঁকুনি দিল্লি, পেশোয়ার পর্যন্ত অনুভূত হয়েছিল।
এই ভূমিকম্পে মেঘালয়, সিলেট, ময়মনসিংহ ও ঢাকায় ১৬শর বেশি মানুষ মারা যায়। ভূতত্ত্বদিব মি. আখতার বলেন, এই ভূমিকম্পের পর ইংরেজরা ভয়ে তাবু টাঙিয়ে বসবাস শুরু করেছিল। এছাড়া অনেকে নৌকাতেও বাস করেছেন কয়েক মাস। ড. আনোয়ার হোসেন ভূঁঞা বলেন, লিখিত আছে যে, হাছন রাজার একটি পোষা হাতি ছিল যেটি ভূমিকম্পের কারণে সৃষ্ট একটি ফাটলে পরে মারা যায়। এঘটনার পর হাছন রাজা মর্মাহত হন এবং তিনি এর পরে মরমী কবি হয়ে উঠেন।
জানা যায়, ১৩০৪ সালের ভীষণ ভূমিকম্পের পর গৌরীপুর রাজবাড়ির ৫ম জমিদার ব্রজেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরী ও তার মা বিশ্বেশ্বরী দেবী ( প্রয়াত ৪র্থ জমিদার রাজেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরীর সহধর্মিণী ) জামালপুরের দয়াময়ী মন্দির সাথে রাধামোহন জিউ মন্দিরটি সময়ে সময়ে সংস্কারের কাজ করেছিলেন। জমিদার শ্রী শৌরীন্দ্র্রকিশোর রায়চৌধুরীর ১৯১১ সালে প্রকাশিত ‘ময়মনসিংহের বারেন্দ্র ব্রাহ্মণ জমিদার’ গ্রন্থে গৌরীপুরের ভবানীপুর জমিদার বাড়ির সংক্ষিপ্ত বিবরণের কথা উল্লেখ রয়েছে। ভূমিকম্প সম্বন্ধে তার কিছু উদ্ধৃতি দেওয়া হলো- ” সতীশচন্দ্র নিজ বাটি অতি সুন্দররূপে গঠিত করিয়াছিলেন কিন্তু বিগত ১৩০৪ সালের ভীষণ ভূমিকম্পে প্রাসাদাবলী ভূমিসাৎ হইয়া গিয়াছে।”

রাজা হরিশ্চন্দ্র চৌধুরী বোকাইনগর বাসাবাড়ি ত্যাগ করে গোলোকপুরে আগমনঃ
রাজা হরিশ্চন্দ্র, গোবিন্দচন্দ্রের স্ত্রী রাধামণি দেবীর (ইংরেজি ১৮২২ সালে) মৃত্যুর পর বাংলা ১২৬০ (ইংরেজি ১৮৫৪) সাল হতে গোলকপুরে বাস করতে শুরু করেন। পূর্বে গোলকপুরের বাড়ির অবস্থা বিশেষ ভালো ছিল না; কিন্তু তিনি বাসাবাড়ি ত্যাগ করে অল্পকাল মধ্যেই গোলকপুরের বাসভবন অপূর্ব রূপ ধারণ করেন। লেখক ও জমিদার শৌরীন্দ্র্রকিশোর রায়চৌধুরীর কিছু উদ্ধৃতি দেওয়া হলো – “তিনি সাধারণত বিলাসী ও আড়ম্বর প্রিয় ছিলেন, অধিকাংশ সময়ই ঢাকা, কলিকাতা প্রভৃতি স্থানে বাহ্যিক আড়ম্বরের সহিত বাস করিতেন। ঐ সকল স্থানে তাহার বৃহৎ বৃহৎ বাটি ক্রীত ও নির্মিত হইয়াছিল। পরের বাটিতে বাস করা তাহার প্রকৃতি-বিরুদ্ধ ছিল। তাহার প্রত্যেক গৃহ বহুমূল্য দ্রব্যাদি দ্বারা সজ্জিত হইয়াছিল। হস্তী, অশ্ব, শকট প্রভৃতিতে তাহার ধনগৌরব প্রতিভাত হইত।” বাংলা ১৩০৪ (ইংরেজি ১৮৯৭) সালের ভূমিকম্পে তার গোলকপুরের রাজপ্রাসাদটি বিধ্বস্ত ও ভূমিসাৎ হওয়াতে তিনি বিশেষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন। বহুমূল্যবান গৃহসামগ্রীও বিনষ্ট হয়েছিল।

গৌরীপুরের বোকাইনগরে সম্রাট শাহজাহান আমলের নির্মিত শাহী মসজিদটি ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলঃ বাংলা ১৩১৫ সালে প্রকাশিত ‘বোকাইনগরের ইতিবৃত্ত’ ফিচার হতে বোকাইনগর শাহী মসজিদ বিষয়ে লেখক ও জমিদার শৌরীন্দ্র্রকিশোর রায়চৌধুরীর কিছু উদ্ধৃতি দেওয়া হলো – “বাদশাহ শাহজাহানের সময়ে সাহিন খাঁ নামক জনৈক
ব্যক্তির উপর দুর্গ রক্ষার ভার ন্যস্ত ছিল। উহার প্রতিষ্ঠিত একটি মসজিদের দ্বারদেশে অর্ধ চন্দ্রাকারে ‘লা এলাহা ইলাল্লা মহমদো রছুল আল্লা দরজমানে বাদশা শাহজাহান’ এই কথাগুলি পারস্য অক্ষরে খোদিত ছিল। বিগত ১৩০৪
সনের ভীষণ ভূমিকম্পে মসজিদটি ধ্বংসপ্রায় হইয়া গিয়াছিল, কিন্তু স্থানীয় অধিবাসীগণের অর্থব্যয়ে উহা পুনঃ সংস্কৃত হইয়াছে। মসজিদের সম্মুখে একটি প্রাচীন দীর্ঘিকা আছে, বর্ষাকাল ব্যতীত অন্য সময়ে উহার জল
ব্যবহারোপোযোগী হয় না। সাধারণের নিকট ইহা ‘সাহিন খাঁর তালাও’ বলিয়া পরিচিত । সাহিন খাঁ মুসলমান রীতি অতিক্রম করিয়া মজিদের পূর্বদিকে এই জলাশয় খনন করিয়াছিলেন, তাঁহার মাতা ও সহধর্মীগণ এই ধর্ম-বিগহিত কার্যে
অশ্রদ্ধা প্রকাশ করায়, মসজিদের পশ্চিমভাগে আরও একটী পুষ্করিণী খনন করিতে বাধ্য হইয়াছিলেন। “

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বাংলা ১৩০৪ সালের ভীষণ ভূমিকম্প এর স্বরণ দিবস

আপডেট সময় : ০৬:৩১:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জুন ২০২৩

 

জাকারিয়া হোসেন হিমেলঃ

বাংলা ১৩০৪ সালের ভীষণ ভূমিকম্প এর স্বরণ দিবস। ১২ জুন, ১৮৯৭ সালের সেই ভীষণ ভূমিকম্প আজও স্বরণ করে দেয় বৃহত্তর ময়মনসিংহবাসীকে। এই ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৮.২- ৮.৩। ১৮৯৭ সালের ১২ই জুন এটি শিলং প্ল্যাটুতে আঘাত হানে। এটা গ্রেট ইন্ডিয়ান আর্থকোয়েক নামে পরিচিত। এটার ঝাঁকুনি দিল্লি, পেশোয়ার পর্যন্ত অনুভূত হয়েছিল।
এই ভূমিকম্পে মেঘালয়, সিলেট, ময়মনসিংহ ও ঢাকায় ১৬শর বেশি মানুষ মারা যায়। ভূতত্ত্বদিব মি. আখতার বলেন, এই ভূমিকম্পের পর ইংরেজরা ভয়ে তাবু টাঙিয়ে বসবাস শুরু করেছিল। এছাড়া অনেকে নৌকাতেও বাস করেছেন কয়েক মাস। ড. আনোয়ার হোসেন ভূঁঞা বলেন, লিখিত আছে যে, হাছন রাজার একটি পোষা হাতি ছিল যেটি ভূমিকম্পের কারণে সৃষ্ট একটি ফাটলে পরে মারা যায়। এঘটনার পর হাছন রাজা মর্মাহত হন এবং তিনি এর পরে মরমী কবি হয়ে উঠেন।
জানা যায়, ১৩০৪ সালের ভীষণ ভূমিকম্পের পর গৌরীপুর রাজবাড়ির ৫ম জমিদার ব্রজেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরী ও তার মা বিশ্বেশ্বরী দেবী ( প্রয়াত ৪র্থ জমিদার রাজেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরীর সহধর্মিণী ) জামালপুরের দয়াময়ী মন্দির সাথে রাধামোহন জিউ মন্দিরটি সময়ে সময়ে সংস্কারের কাজ করেছিলেন। জমিদার শ্রী শৌরীন্দ্র্রকিশোর রায়চৌধুরীর ১৯১১ সালে প্রকাশিত ‘ময়মনসিংহের বারেন্দ্র ব্রাহ্মণ জমিদার’ গ্রন্থে গৌরীপুরের ভবানীপুর জমিদার বাড়ির সংক্ষিপ্ত বিবরণের কথা উল্লেখ রয়েছে। ভূমিকম্প সম্বন্ধে তার কিছু উদ্ধৃতি দেওয়া হলো- ” সতীশচন্দ্র নিজ বাটি অতি সুন্দররূপে গঠিত করিয়াছিলেন কিন্তু বিগত ১৩০৪ সালের ভীষণ ভূমিকম্পে প্রাসাদাবলী ভূমিসাৎ হইয়া গিয়াছে।”

রাজা হরিশ্চন্দ্র চৌধুরী বোকাইনগর বাসাবাড়ি ত্যাগ করে গোলোকপুরে আগমনঃ
রাজা হরিশ্চন্দ্র, গোবিন্দচন্দ্রের স্ত্রী রাধামণি দেবীর (ইংরেজি ১৮২২ সালে) মৃত্যুর পর বাংলা ১২৬০ (ইংরেজি ১৮৫৪) সাল হতে গোলকপুরে বাস করতে শুরু করেন। পূর্বে গোলকপুরের বাড়ির অবস্থা বিশেষ ভালো ছিল না; কিন্তু তিনি বাসাবাড়ি ত্যাগ করে অল্পকাল মধ্যেই গোলকপুরের বাসভবন অপূর্ব রূপ ধারণ করেন। লেখক ও জমিদার শৌরীন্দ্র্রকিশোর রায়চৌধুরীর কিছু উদ্ধৃতি দেওয়া হলো – “তিনি সাধারণত বিলাসী ও আড়ম্বর প্রিয় ছিলেন, অধিকাংশ সময়ই ঢাকা, কলিকাতা প্রভৃতি স্থানে বাহ্যিক আড়ম্বরের সহিত বাস করিতেন। ঐ সকল স্থানে তাহার বৃহৎ বৃহৎ বাটি ক্রীত ও নির্মিত হইয়াছিল। পরের বাটিতে বাস করা তাহার প্রকৃতি-বিরুদ্ধ ছিল। তাহার প্রত্যেক গৃহ বহুমূল্য দ্রব্যাদি দ্বারা সজ্জিত হইয়াছিল। হস্তী, অশ্ব, শকট প্রভৃতিতে তাহার ধনগৌরব প্রতিভাত হইত।” বাংলা ১৩০৪ (ইংরেজি ১৮৯৭) সালের ভূমিকম্পে তার গোলকপুরের রাজপ্রাসাদটি বিধ্বস্ত ও ভূমিসাৎ হওয়াতে তিনি বিশেষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন। বহুমূল্যবান গৃহসামগ্রীও বিনষ্ট হয়েছিল।

গৌরীপুরের বোকাইনগরে সম্রাট শাহজাহান আমলের নির্মিত শাহী মসজিদটি ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলঃ বাংলা ১৩১৫ সালে প্রকাশিত ‘বোকাইনগরের ইতিবৃত্ত’ ফিচার হতে বোকাইনগর শাহী মসজিদ বিষয়ে লেখক ও জমিদার শৌরীন্দ্র্রকিশোর রায়চৌধুরীর কিছু উদ্ধৃতি দেওয়া হলো – “বাদশাহ শাহজাহানের সময়ে সাহিন খাঁ নামক জনৈক
ব্যক্তির উপর দুর্গ রক্ষার ভার ন্যস্ত ছিল। উহার প্রতিষ্ঠিত একটি মসজিদের দ্বারদেশে অর্ধ চন্দ্রাকারে ‘লা এলাহা ইলাল্লা মহমদো রছুল আল্লা দরজমানে বাদশা শাহজাহান’ এই কথাগুলি পারস্য অক্ষরে খোদিত ছিল। বিগত ১৩০৪
সনের ভীষণ ভূমিকম্পে মসজিদটি ধ্বংসপ্রায় হইয়া গিয়াছিল, কিন্তু স্থানীয় অধিবাসীগণের অর্থব্যয়ে উহা পুনঃ সংস্কৃত হইয়াছে। মসজিদের সম্মুখে একটি প্রাচীন দীর্ঘিকা আছে, বর্ষাকাল ব্যতীত অন্য সময়ে উহার জল
ব্যবহারোপোযোগী হয় না। সাধারণের নিকট ইহা ‘সাহিন খাঁর তালাও’ বলিয়া পরিচিত । সাহিন খাঁ মুসলমান রীতি অতিক্রম করিয়া মজিদের পূর্বদিকে এই জলাশয় খনন করিয়াছিলেন, তাঁহার মাতা ও সহধর্মীগণ এই ধর্ম-বিগহিত কার্যে
অশ্রদ্ধা প্রকাশ করায়, মসজিদের পশ্চিমভাগে আরও একটী পুষ্করিণী খনন করিতে বাধ্য হইয়াছিলেন। “