ঢাকা ১১:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাউবির এমএসএস প্রোগ্রামে প্রথমবারের মতো তৃতীয় লিঙ্গের শিক্ষার্থীর ডিগ্রি অর্জন গাজীপুরের গাছায় দারুল হেদায়া কওমী মাদ্রাসার ৬ ছাত্রকে বলাৎকার শিক্ষক ও পরিচালক গ্রেপ্তার মক্কায় মসজিদে ‘অনৈতিক কাজ’, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ২ বাংলাদেশির নাম প্রকাশ চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বিশিষ্ট সমাজ সেবক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন টঙ্গীতে মাদকের বিস্তার, বাড়ছে ছিনতাই-অস্ত্রের ব্যবহার ৯ মাসে ৪০২ মামলা, গ্রেপ্তার ৯৫৬; অভিযানের পরও থামছে না অপরাধ গাজীপুরে গণমাধ্যমকর্মীকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি বিআরটিএতে ‘প্রভাবশালী’ মোটরযান পরিদর্শক খ্যাত মামুনুর রশিদ এর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ গাজীপুর মহানগরেতে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী, নির্বিকার সিটি কর্পোরেশন রাজধানীতে নারী থেকে পুরুষ হওয়ার স্বপ্নে অপারেশনের পর মৃত্যু হয় লিজার গাজীপুর টঙ্গীতে মাদক নির্মূলের নামে বস্তি উচ্ছেদের অভিযোগ, বস্তিবাসীর বিক্ষোভ

বাউবির এমএসএস প্রোগ্রামে প্রথমবারের মতো তৃতীয় লিঙ্গের শিক্ষার্থীর ডিগ্রি অর্জন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৪:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

স্টাফ রিপোর্টারঃ

বাউবির এমএসএস প্রোগ্রামে প্রথমবারের মতো তৃতীয় লিঙ্গের শিক্ষার্থীর ডিগ্রি অর্জন করেন।
৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তানিশা ইয়াসমিন চৈতিকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।

অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার ক্ষেত্রে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি)। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান, মানবিক ও ভাষা স্কুল পরিচালিত এমএসএস ইন সোশিওলজি প্রোগ্রামে প্রথমবারের মতো তৃতীয় লিঙ্গের শিক্ষার্থী তানিশা ইয়াসমিন চৈতি সফলভাবে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ২০২৩–২০২৪ শিক্ষাবর্ষের এই শিক্ষার্থী ৪.০০-এর মধ্যে ৩.৩০ সিজিপিএ অর্জন করে তাঁর মেধা ও অধ্যবসায়ের স্বাক্ষর রেখেছেন।
গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন অনুষ্ঠানে তানিশা ইয়াসমিন চৈতির এই কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে বিশেষ সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন তাঁর হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন। বাউবি’র উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ।
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার বাইরে থাকা এবং শিক্ষাসুযোগ থেকে বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য শিক্ষার দ্বার উন্মুক্ত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বয়স, পেশা, ভৌগোলিক অবস্থান কিংবা সামাজিক পরিচয় যেন শিক্ষার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়—এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে বিশ্ববিদ্যালয়টি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তানিশা ইয়াসমিন চৈতির এই অর্জন বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই অঙ্গীকারেরই একটি তাৎপর্যপূর্ণ প্রতিফলন।
তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীর মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে বাউবির রংপুর আঞ্চলিক কেন্দ্রের অধীন পৃথক স্টাডি সেন্টার স্থাপন করে নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সমাজের প্রান্তিক এই জনগোষ্ঠীর জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় অংশগ্রহণ ও নিজেদের যোগ্যতা বিকাশের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীর শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের এ উদ্যোগ সম্পর্কে অবহিত হয়ে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি, এ ধরনের অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষামূলক কার্যক্রমের প্রসার ও উন্নয়নে ভবিষ্যতে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
তানিশা ইয়াসমিন চৈতির এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়; বরং এটি সামাজিক অন্তর্ভুক্তি, সমান শিক্ষার অধিকার এবং বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের পথে একটি অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টান্ত। তাঁর এই অর্জন তৃতীয় লিঙ্গের অন্যান্য শিক্ষার্থীকেও উচ্চশিক্ষায় এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বাউবির এমএসএস প্রোগ্রামে প্রথমবারের মতো তৃতীয় লিঙ্গের শিক্ষার্থীর ডিগ্রি অর্জন

আপডেট সময় : ০৬:৩৪:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টারঃ

বাউবির এমএসএস প্রোগ্রামে প্রথমবারের মতো তৃতীয় লিঙ্গের শিক্ষার্থীর ডিগ্রি অর্জন করেন।
৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তানিশা ইয়াসমিন চৈতিকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।

অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার ক্ষেত্রে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি)। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান, মানবিক ও ভাষা স্কুল পরিচালিত এমএসএস ইন সোশিওলজি প্রোগ্রামে প্রথমবারের মতো তৃতীয় লিঙ্গের শিক্ষার্থী তানিশা ইয়াসমিন চৈতি সফলভাবে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ২০২৩–২০২৪ শিক্ষাবর্ষের এই শিক্ষার্থী ৪.০০-এর মধ্যে ৩.৩০ সিজিপিএ অর্জন করে তাঁর মেধা ও অধ্যবসায়ের স্বাক্ষর রেখেছেন।
গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন অনুষ্ঠানে তানিশা ইয়াসমিন চৈতির এই কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে বিশেষ সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন তাঁর হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন। বাউবি’র উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ।
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার বাইরে থাকা এবং শিক্ষাসুযোগ থেকে বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য শিক্ষার দ্বার উন্মুক্ত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বয়স, পেশা, ভৌগোলিক অবস্থান কিংবা সামাজিক পরিচয় যেন শিক্ষার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়—এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে বিশ্ববিদ্যালয়টি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তানিশা ইয়াসমিন চৈতির এই অর্জন বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই অঙ্গীকারেরই একটি তাৎপর্যপূর্ণ প্রতিফলন।
তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীর মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে বাউবির রংপুর আঞ্চলিক কেন্দ্রের অধীন পৃথক স্টাডি সেন্টার স্থাপন করে নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সমাজের প্রান্তিক এই জনগোষ্ঠীর জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় অংশগ্রহণ ও নিজেদের যোগ্যতা বিকাশের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীর শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের এ উদ্যোগ সম্পর্কে অবহিত হয়ে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি, এ ধরনের অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষামূলক কার্যক্রমের প্রসার ও উন্নয়নে ভবিষ্যতে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
তানিশা ইয়াসমিন চৈতির এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়; বরং এটি সামাজিক অন্তর্ভুক্তি, সমান শিক্ষার অধিকার এবং বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের পথে একটি অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টান্ত। তাঁর এই অর্জন তৃতীয় লিঙ্গের অন্যান্য শিক্ষার্থীকেও উচ্চশিক্ষায় এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।