ঢাকা ০৬:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাউবির এমএসএস প্রোগ্রামে প্রথমবারের মতো তৃতীয় লিঙ্গের শিক্ষার্থীর ডিগ্রি অর্জন গাজীপুরের গাছায় দারুল হেদায়া কওমী মাদ্রাসার ৬ ছাত্রকে বলাৎকার শিক্ষক ও পরিচালক গ্রেপ্তার মক্কায় মসজিদে ‘অনৈতিক কাজ’, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ২ বাংলাদেশির নাম প্রকাশ চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বিশিষ্ট সমাজ সেবক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন টঙ্গীতে মাদকের বিস্তার, বাড়ছে ছিনতাই-অস্ত্রের ব্যবহার ৯ মাসে ৪০২ মামলা, গ্রেপ্তার ৯৫৬; অভিযানের পরও থামছে না অপরাধ গাজীপুরে গণমাধ্যমকর্মীকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি বিআরটিএতে ‘প্রভাবশালী’ মোটরযান পরিদর্শক খ্যাত মামুনুর রশিদ এর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ গাজীপুর মহানগরেতে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী, নির্বিকার সিটি কর্পোরেশন রাজধানীতে নারী থেকে পুরুষ হওয়ার স্বপ্নে অপারেশনের পর মৃত্যু হয় লিজার গাজীপুর টঙ্গীতে মাদক নির্মূলের নামে বস্তি উচ্ছেদের অভিযোগ, বস্তিবাসীর বিক্ষোভ

সুনামগঞ্জ আব্দুল হক স্মৃতি কলেজ অবৈধভাবে বেতন উত্তোলন ও দুর্নীতির অভিযোগে অধ্যক্ষসহ ৬জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:২১:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জুন ২০২৩ ৬৬৯ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ঐতিহ্যবাহী আব্দুল হক স্মৃতি কলেজের অধ্যক্ষ সহ ৬ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওই কলেজের বিএসএস (সম্মান) কোর্সের শিক্ষার্থী মোঃ ইমদাদুল হক ইমন বাদী হয়ে সুনামগঞ্জের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার অন্য আসামীরা হলেন, কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অনিল কুমার , সহকারি অধ্যাপক মোঃ রফিকুল ইসলাম, কলেজ পরিচালনা পরিষদের সদস্য মোঃ ফজলুর রহমান,কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও পরিচালনা কমিটির সদস্য তৈয়ব আলী।
এদিকে আদালতের বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদককে) নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন আব্দুল হক।তিনি জাতীয় পরিষদের সদস্য ও যুদ্ধ চলাকালীন ৫ নং সেক্টরের উপদেষ্টাও ছিলেন।মৃত্যুর পর তার স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য এলাকাবাসী গোবিন্দগঞ্জ আব্দুল হক কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ের প্রভাষক হিসেবে ১৯৯৬ সালের ২৯ শে ফেব্রুয়ারি এই কলেজে যোগদান করেন সুজাত আলী।২৩ জুন ২০০৬ সালে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার জন্য কলেজ পরিচালনা পরিষদের কাছে তিনি ছুটির আবেদন করেন এবং পরদিন ছুটির আবেদনটি মঞ্জুর করেন কলেজ পরিচালনা পরিষদের সদস্য বৃন্দ।একই সালের ২৩শে আগস্ট তিনি আবারও ছুটির আবেদন করলে সেটিও মঞ্জুর করেন কলেজ পরিচালনা পরিষদ।
কিন্তু তিনি নির্ধারিত সময়ে কলেজে যোগদান না করলে কলেজ পরিচালনা পরিষদ ২০০৭ সালের ৪ এপ্রিল তাকে ১৫ দিনের মধ্যে কলেজে যোগদান করতে চিঠি দেন।নির্ধারিত তারিখে কলেজে যোগদান না করে তিনি আবারও ছুটি বর্ধিত করার জন্য ১৭ এপ্রিল পরিচালনা পরিষদের নিকট একটি আবেদন করেন।কিন্তু পরিচালনা পরিষদ এই আবেদনটি গ্রহণ না করে একই বছরের ২ ডিসেম্বর তাকে চাকরি থেকে কেন বরখাস্ত করা হবে না মর্মে কারণ দর্শানো নোটিশ প্রদান করেন।
সুজাত আলী সেই নোটিশের জবাব না দিয়ে ১৬ ডিসেম্বর ২০০৭ পরিচালনা পরিষদের নিকট চাকরি থেকে অব্যাহতির আবেদন করেন।পরে ১০ জানুয়ারি ২০০৮ সালে পরিচালনা পরিষদ সেই আবেদনটি গ্রহণ করেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়,অভিযুক্ত ব্যক্তিগণ ২০০৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১০ সালের ২৩ মার্চ পর্যন্ত সুজাত আলীর অনুপস্থিতি কে একটি অসাধারণ ছুটি দেখিয়ে  তাকে পুনরায় চাকরিতে বহাল করেন।কমিটির এই অবৈধ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দা এই মামলার অন্যতম সাক্ষী  আশিকুর রহমান বাদী হয়ে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন (৪৭৩৩/২০১০) দায়ের  করেন।
২০১০ সালের ৬ ডিসেম্বর হাই কোর্ট পরিচালনা পরিষদের এই সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করেন।সুজাত আলী  হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে সেটিও ২০১০ সালের ৩১ জানুয়ারি খারিজ করে দেয়া হয়।আদালতের এই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর সুজাত আলীর বেতন-ভাতা স্থগিত করে দেওয়ার জন্য কলেজ পরিচালনা পরিষদ কে চিঠি দেয়।
কিন্তু কলেজ পরিচালনা পরিষদ সেই চিঠির কোন পাত্তা দেয়নি।সংশ্লিষ্ট ওরা মনে করেন সুজাত আলী একজন শিক্ষক হয়েও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে চাকরিতে বহাল রয়েছেন এবং অবৈধ উপায়ে  নিয়মিত বেতন -ভাতাদির সুবিধা  নিচ্ছেন।সুতরাং তিনি অন্যায় ভাবে সরকারি অর্থের অপচয় করছেন।তাই তাকে চাকরি হতে অব্যাহতি দিয়ে অন্যায় ভাবে নেওয়া অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার জোর দাবি সংশ্লিষ্টদের।
এ ব্যাপারে বারবার চেষ্টা করেও সুজাত আলীর  বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

সুনামগঞ্জ আব্দুল হক স্মৃতি কলেজ অবৈধভাবে বেতন উত্তোলন ও দুর্নীতির অভিযোগে অধ্যক্ষসহ ৬জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

আপডেট সময় : ০১:২১:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জুন ২০২৩

 

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ঐতিহ্যবাহী আব্দুল হক স্মৃতি কলেজের অধ্যক্ষ সহ ৬ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওই কলেজের বিএসএস (সম্মান) কোর্সের শিক্ষার্থী মোঃ ইমদাদুল হক ইমন বাদী হয়ে সুনামগঞ্জের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার অন্য আসামীরা হলেন, কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অনিল কুমার , সহকারি অধ্যাপক মোঃ রফিকুল ইসলাম, কলেজ পরিচালনা পরিষদের সদস্য মোঃ ফজলুর রহমান,কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও পরিচালনা কমিটির সদস্য তৈয়ব আলী।
এদিকে আদালতের বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদককে) নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন আব্দুল হক।তিনি জাতীয় পরিষদের সদস্য ও যুদ্ধ চলাকালীন ৫ নং সেক্টরের উপদেষ্টাও ছিলেন।মৃত্যুর পর তার স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য এলাকাবাসী গোবিন্দগঞ্জ আব্দুল হক কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ের প্রভাষক হিসেবে ১৯৯৬ সালের ২৯ শে ফেব্রুয়ারি এই কলেজে যোগদান করেন সুজাত আলী।২৩ জুন ২০০৬ সালে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার জন্য কলেজ পরিচালনা পরিষদের কাছে তিনি ছুটির আবেদন করেন এবং পরদিন ছুটির আবেদনটি মঞ্জুর করেন কলেজ পরিচালনা পরিষদের সদস্য বৃন্দ।একই সালের ২৩শে আগস্ট তিনি আবারও ছুটির আবেদন করলে সেটিও মঞ্জুর করেন কলেজ পরিচালনা পরিষদ।
কিন্তু তিনি নির্ধারিত সময়ে কলেজে যোগদান না করলে কলেজ পরিচালনা পরিষদ ২০০৭ সালের ৪ এপ্রিল তাকে ১৫ দিনের মধ্যে কলেজে যোগদান করতে চিঠি দেন।নির্ধারিত তারিখে কলেজে যোগদান না করে তিনি আবারও ছুটি বর্ধিত করার জন্য ১৭ এপ্রিল পরিচালনা পরিষদের নিকট একটি আবেদন করেন।কিন্তু পরিচালনা পরিষদ এই আবেদনটি গ্রহণ না করে একই বছরের ২ ডিসেম্বর তাকে চাকরি থেকে কেন বরখাস্ত করা হবে না মর্মে কারণ দর্শানো নোটিশ প্রদান করেন।
সুজাত আলী সেই নোটিশের জবাব না দিয়ে ১৬ ডিসেম্বর ২০০৭ পরিচালনা পরিষদের নিকট চাকরি থেকে অব্যাহতির আবেদন করেন।পরে ১০ জানুয়ারি ২০০৮ সালে পরিচালনা পরিষদ সেই আবেদনটি গ্রহণ করেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়,অভিযুক্ত ব্যক্তিগণ ২০০৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১০ সালের ২৩ মার্চ পর্যন্ত সুজাত আলীর অনুপস্থিতি কে একটি অসাধারণ ছুটি দেখিয়ে  তাকে পুনরায় চাকরিতে বহাল করেন।কমিটির এই অবৈধ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দা এই মামলার অন্যতম সাক্ষী  আশিকুর রহমান বাদী হয়ে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন (৪৭৩৩/২০১০) দায়ের  করেন।
২০১০ সালের ৬ ডিসেম্বর হাই কোর্ট পরিচালনা পরিষদের এই সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করেন।সুজাত আলী  হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে সেটিও ২০১০ সালের ৩১ জানুয়ারি খারিজ করে দেয়া হয়।আদালতের এই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর সুজাত আলীর বেতন-ভাতা স্থগিত করে দেওয়ার জন্য কলেজ পরিচালনা পরিষদ কে চিঠি দেয়।
কিন্তু কলেজ পরিচালনা পরিষদ সেই চিঠির কোন পাত্তা দেয়নি।সংশ্লিষ্ট ওরা মনে করেন সুজাত আলী একজন শিক্ষক হয়েও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে চাকরিতে বহাল রয়েছেন এবং অবৈধ উপায়ে  নিয়মিত বেতন -ভাতাদির সুবিধা  নিচ্ছেন।সুতরাং তিনি অন্যায় ভাবে সরকারি অর্থের অপচয় করছেন।তাই তাকে চাকরি হতে অব্যাহতি দিয়ে অন্যায় ভাবে নেওয়া অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার জোর দাবি সংশ্লিষ্টদের।
এ ব্যাপারে বারবার চেষ্টা করেও সুজাত আলীর  বক্তব্য পাওয়া যায়নি।