ঢাকা ০৭:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাউবির এমএসএস প্রোগ্রামে প্রথমবারের মতো তৃতীয় লিঙ্গের শিক্ষার্থীর ডিগ্রি অর্জন গাজীপুরের গাছায় দারুল হেদায়া কওমী মাদ্রাসার ৬ ছাত্রকে বলাৎকার শিক্ষক ও পরিচালক গ্রেপ্তার মক্কায় মসজিদে ‘অনৈতিক কাজ’, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ২ বাংলাদেশির নাম প্রকাশ চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বিশিষ্ট সমাজ সেবক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন টঙ্গীতে মাদকের বিস্তার, বাড়ছে ছিনতাই-অস্ত্রের ব্যবহার ৯ মাসে ৪০২ মামলা, গ্রেপ্তার ৯৫৬; অভিযানের পরও থামছে না অপরাধ গাজীপুরে গণমাধ্যমকর্মীকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি বিআরটিএতে ‘প্রভাবশালী’ মোটরযান পরিদর্শক খ্যাত মামুনুর রশিদ এর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ গাজীপুর মহানগরেতে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী, নির্বিকার সিটি কর্পোরেশন রাজধানীতে নারী থেকে পুরুষ হওয়ার স্বপ্নে অপারেশনের পর মৃত্যু হয় লিজার গাজীপুর টঙ্গীতে মাদক নির্মূলের নামে বস্তি উচ্ছেদের অভিযোগ, বস্তিবাসীর বিক্ষোভ

আ.লীগ-বিএনপি সংঘর্ষে রণক্ষেত্র ফেনী, আহত শতাধিক

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:২৮:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুলাই ২০২৩ ৫৮৭ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জাকারিয়া হোসেন হিমেলঃ

ফেনীতে বিএনপির পদযাত্রাকে ঘিরে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও পুলিশ ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) বিকেলে এ ঘটনায় ফেনী শহরের ট্রাংক রোড, শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সার সড়ক, ইসলামপুর রোড রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ধারণা করা হচ্ছে, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, পুলিশ ও সাংবাদিকসহ প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিএনপির পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে ফেনী শহরের জিরোপয়েন্ট এলাকাসহ ইসলামপুর রোডে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পরে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এ সংঘর্ষ থেমে থেমে প্রায় দুই ঘণ্টা পর্যন্ত চলে। এদিকে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিকেল ৫টায় ফেনী পৌর চত্বর থেকে শান্তি মিছিল বের করে। মিছিলটি শহরের প্রেস ক্লাব ভবন পার হওয়ার সময় একটি ভবন থেকে ককটেল নিক্ষেপ করলে নেতাকর্মীরা ছিটকে পড়ে। এরপর বিএনপি কর্মীরা অতর্কিতভাবে আওয়ামী লীগের মিছিলে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এ সময় জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি ফজলুর রহমান, ছনুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জমির উদ্দিন ও ধর্মপুর ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা জয়নাল আবেদিন গুরুতর আহত হন। তাকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া বিএনপি নেতাকর্মী, সাংবাদিক ও পুলিশসহ শতাধিক আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে।

জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল জানান, প্রতিপক্ষের হামলায় ছাত্রদল ও যুবদলের ৭৬ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন তারেক, কামরুল, ইবু, মো. জলিলুর রহমান, আবু আহম্মদ, খুরশিদ, মুক্তার হোসেন রনি, সৈকত, জাকির আহম্মদ রয়েছে।

জানা গেছে, সংঘর্ষ চলাকালে ফেনী প্রেস ক্লাব ভবন, সাউথ ইস্ট ব্যাংক, যমুনা ব্যাংকসহ বেশ কয়েকটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা পুলিশের কাজে ব্যবহৃত মাইক্রোবাস ভাঙচুর করা হয়েছে।

সংঘর্ষ শেষে আওয়ামী লীগ শহরের ট্রাংক রোডে জিরো পয়েন্টে জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট হাফেজ আহম্মদের সভাপতিত্বে শান্তি সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খায়রুল বাশার তপন, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি করিম উল্যাহ, সাধারণ সম্পাদক শুসেন চন্দ্র শীল, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, শান্তি মিছিলে যারা বোমা হামলা চালিয়েছে তাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

এদিকে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল জানান, বিএনপির পদযাত্রায় পুলিশ বিনা উস্কানিতে হামলা চালিয়েছেন। হামলায় তাদের দলের ৭৬ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

ফেনী প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জমির বেগ জানান, গণমাধ্যম কর্মীরা ছবি তোলার সময় তাদের লক্ষ্য করে দুষ্কৃতকারীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে প্রেস ক্লাব ভবনের গ্লাস ভেঙে আহত হওয়া ছাড়াও বিভিন্ন পয়েন্টে বেশ কয়েকজন সাংবাদিক আহত হন।

ফেনীর পুলিশ সুপার জাকির হাসান জানান, বিএনপির নেতাকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেছে। বেশ কিছু স্থাপনা ও গাড়ি ভাঙচুর চালিয়েছে। পুলিশ বাধ্য হয়ে তাদেরও পিছু হটানোর জন্য ফাঁকা গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে। ঘটনায় ১০ থেকে ১২ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

আ.লীগ-বিএনপি সংঘর্ষে রণক্ষেত্র ফেনী, আহত শতাধিক

আপডেট সময় : ০৩:২৮:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুলাই ২০২৩

জাকারিয়া হোসেন হিমেলঃ

ফেনীতে বিএনপির পদযাত্রাকে ঘিরে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও পুলিশ ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) বিকেলে এ ঘটনায় ফেনী শহরের ট্রাংক রোড, শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সার সড়ক, ইসলামপুর রোড রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ধারণা করা হচ্ছে, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, পুলিশ ও সাংবাদিকসহ প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিএনপির পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে ফেনী শহরের জিরোপয়েন্ট এলাকাসহ ইসলামপুর রোডে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পরে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এ সংঘর্ষ থেমে থেমে প্রায় দুই ঘণ্টা পর্যন্ত চলে। এদিকে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিকেল ৫টায় ফেনী পৌর চত্বর থেকে শান্তি মিছিল বের করে। মিছিলটি শহরের প্রেস ক্লাব ভবন পার হওয়ার সময় একটি ভবন থেকে ককটেল নিক্ষেপ করলে নেতাকর্মীরা ছিটকে পড়ে। এরপর বিএনপি কর্মীরা অতর্কিতভাবে আওয়ামী লীগের মিছিলে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এ সময় জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি ফজলুর রহমান, ছনুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জমির উদ্দিন ও ধর্মপুর ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা জয়নাল আবেদিন গুরুতর আহত হন। তাকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া বিএনপি নেতাকর্মী, সাংবাদিক ও পুলিশসহ শতাধিক আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে।

জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল জানান, প্রতিপক্ষের হামলায় ছাত্রদল ও যুবদলের ৭৬ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন তারেক, কামরুল, ইবু, মো. জলিলুর রহমান, আবু আহম্মদ, খুরশিদ, মুক্তার হোসেন রনি, সৈকত, জাকির আহম্মদ রয়েছে।

জানা গেছে, সংঘর্ষ চলাকালে ফেনী প্রেস ক্লাব ভবন, সাউথ ইস্ট ব্যাংক, যমুনা ব্যাংকসহ বেশ কয়েকটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা পুলিশের কাজে ব্যবহৃত মাইক্রোবাস ভাঙচুর করা হয়েছে।

সংঘর্ষ শেষে আওয়ামী লীগ শহরের ট্রাংক রোডে জিরো পয়েন্টে জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট হাফেজ আহম্মদের সভাপতিত্বে শান্তি সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খায়রুল বাশার তপন, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি করিম উল্যাহ, সাধারণ সম্পাদক শুসেন চন্দ্র শীল, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, শান্তি মিছিলে যারা বোমা হামলা চালিয়েছে তাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

এদিকে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল জানান, বিএনপির পদযাত্রায় পুলিশ বিনা উস্কানিতে হামলা চালিয়েছেন। হামলায় তাদের দলের ৭৬ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

ফেনী প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জমির বেগ জানান, গণমাধ্যম কর্মীরা ছবি তোলার সময় তাদের লক্ষ্য করে দুষ্কৃতকারীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে প্রেস ক্লাব ভবনের গ্লাস ভেঙে আহত হওয়া ছাড়াও বিভিন্ন পয়েন্টে বেশ কয়েকজন সাংবাদিক আহত হন।

ফেনীর পুলিশ সুপার জাকির হাসান জানান, বিএনপির নেতাকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেছে। বেশ কিছু স্থাপনা ও গাড়ি ভাঙচুর চালিয়েছে। পুলিশ বাধ্য হয়ে তাদেরও পিছু হটানোর জন্য ফাঁকা গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে। ঘটনায় ১০ থেকে ১২ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।