ঢাকা ০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টঙ্গীতে ১০ হাজার পিচ ইয়াবা সহ দুই নারী আটক  রাজধানীতে বসছে ২৪ অস্থায়ী পশুর হাট, আফতাবনগরে ‘অনিশ্চিত’ যুবসমাজ রক্ষায় মাদককে না বলুন- গাছায় বিএনপির নেতার বিশাল র ্যালি ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে বিধবাকে ধ/র্ষণ গাজীপুরে গাছায় ১১ পিস ইয়াবাসহ নারী-পুরুষ গ্রেপ্তার গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার গাছা এলার বিভিন্ন ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন গাজীপুরে টঙ্গীতে স্বামীর গোপনাঙ্গ কর্তন স্ত্রী গ্রেফতার গাছা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আব্দুল হামিদ খান কে দেখতে জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে যান গাছা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃকামাল উদ্দিন। গাছা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আব্দুল হামিদ খান ভাই মহাখালী জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতাল  ভর্তি আছে সবাই তার জন্য দোয়া করবেন। দেশবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন গাছা প্রেসক্লাবে সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম

বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান খান ফারুকের জীবনবৃত্তান্ত

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:০৩:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০২৪ ২৩১ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জাকারিয়া হোসেন হিমেলঃ

জননেতা ফজলুর রহমান খান ফারুক ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দে টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলার ওয়ার্শী ইউনিয়নের কহেলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা আব্দুল হামিদ খান টাঙ্গাইলের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি কহেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা লাভের পর টাঙ্গাইল বিন্দুবাসিনী হাইস্কুল থেকে ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে ম্যাস্ট্রিকুলেশন, ১৯৬৩ খ্রিস্টাব্দে সা’দত কলেজ করটিয়া থেকে আই.কম, ১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দে জগন্নাথ কলেজ থেকে বিএ পাস করেন। ১৯৬৭-৬৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে এমএসএস করেন এবং ঢাকা সিটি ল কলেজে অধ্যয়ন করেন। তিনি ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে টাঙ্গাইল মহকুমা ছাত্র-সংগ্রাম পরিষদের কোষাধ্যক্ষ , ১৯৬১-৬২ খ্রিস্টাব্দে টাঙ্গাইল মহকুমা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, ১৯৬৩-৬৪ খ্রিস্টাব্দে ইত্তেফাকের টাঙ্গাইল নিজস্ব সংবাদদাতা এবং টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে ছাত্র আন্দোলনের কারণে গ্রেফতারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে আত্মগোপন করেন। তিনি ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দে সারা দেশব্যাপী কুখ্যাত হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট বিরোধী আন্দোলন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কনভোকেশন বিরোধী আন্দোলনের কারণে জননিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার হন। ওই সময়ে টাঙ্গাইলে ছাত্র মিছিলে প্রথম টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করা হয়। জেলাখানায় অভ্যন্তরীন অবস্থাতেই তাঁকে সা’দত কলেজ থেকে বহিস্কারের আদেশ প্রদান করা হয়। ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দে ৬ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষে আন্দোলন করতে গিয়ে পাকিস্তান প্রতিরক্ষা আইনে পুনরায় কারাবন্দী হন। ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি ঢাকা কেন্দ্রী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সদস্য এবং ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক নিবাচিত হন। ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে গণ আন্দোলনে ১১ দফা আন্দোলনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান করে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করায় ফজলুর হমান খান ফারুকসহ ১৮ জন গ্রেফতার হন। টাঙ্গাইলের ছাত্র-জনতা তাদের মুক্তির দাবিতে যে মিছিল বের করে সেই মিছিলে টাঙ্গাইলের ইতিহাসে পুলিশ প্রথম গুলিবর্ষণ করে এবং তাতে বিশ্বনাথ নামের এক যুবক নিহত হয়। ৬ দফা ও ১১ দফা আন্দোলনের ফলে ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে গণ অভ্যুত্থান হয়। ওই আন্দোলনে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরুপ ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তাকে প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন করার জন্য মনোনয়ন দেয় এবং তিনি সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের ৩ এপ্রিল ঢাকার বাইরে পকিবাহিনীর বিরুদ্ধে গোড়ান-সাটিয়াচড়া নামক স্থানে প্রথম প্রতিরোধযুদ্ধে সংগঠিত হয়। ওই সম্মুখ যুদ্ধে তিনি উপস্থিত থেকে নেতৃত্ব প্রদান করেন। ১১ নং সেক্টরে তিনি মুক্তিযোদ্ধা ট্রেনিং সেন্টারে রাজনৈতিক প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি আওয়ামীলীগ মনোনীত টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে তিনি মির্জাপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়া তিনি মির্জাপুর কলেজ, ওয়ার্শী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, দেওহাটা উচ্চ বিদ্যালয়, সোহাগপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, রাজাবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর প্রচেষ্টায় ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে মির্জাপুরের ২৬টি নতুন প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সরকারিকরণ করা হয়। এ সময়ই তিনি মির্জাপুরে ১৭৭টি গভীর নলকুপ স্থাপন করেন, যার মাধ্যমে ইরি ধানের আবাদ শুরু হয়। জননেতা ফজলুর রহমান খান ফারুক বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহচর মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সাবেক গণপরিষদ সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য, সাবেক টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান , টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামীলীগের দীর্ঘদিনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ২০২১ সালে একুশে পদক পান।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান খান ফারুকের জীবনবৃত্তান্ত

আপডেট সময় : ০৭:০৩:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০২৪

জাকারিয়া হোসেন হিমেলঃ

জননেতা ফজলুর রহমান খান ফারুক ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দে টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলার ওয়ার্শী ইউনিয়নের কহেলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা আব্দুল হামিদ খান টাঙ্গাইলের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি কহেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা লাভের পর টাঙ্গাইল বিন্দুবাসিনী হাইস্কুল থেকে ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে ম্যাস্ট্রিকুলেশন, ১৯৬৩ খ্রিস্টাব্দে সা’দত কলেজ করটিয়া থেকে আই.কম, ১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দে জগন্নাথ কলেজ থেকে বিএ পাস করেন। ১৯৬৭-৬৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে এমএসএস করেন এবং ঢাকা সিটি ল কলেজে অধ্যয়ন করেন। তিনি ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে টাঙ্গাইল মহকুমা ছাত্র-সংগ্রাম পরিষদের কোষাধ্যক্ষ , ১৯৬১-৬২ খ্রিস্টাব্দে টাঙ্গাইল মহকুমা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, ১৯৬৩-৬৪ খ্রিস্টাব্দে ইত্তেফাকের টাঙ্গাইল নিজস্ব সংবাদদাতা এবং টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে ছাত্র আন্দোলনের কারণে গ্রেফতারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে আত্মগোপন করেন। তিনি ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দে সারা দেশব্যাপী কুখ্যাত হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট বিরোধী আন্দোলন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কনভোকেশন বিরোধী আন্দোলনের কারণে জননিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার হন। ওই সময়ে টাঙ্গাইলে ছাত্র মিছিলে প্রথম টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করা হয়। জেলাখানায় অভ্যন্তরীন অবস্থাতেই তাঁকে সা’দত কলেজ থেকে বহিস্কারের আদেশ প্রদান করা হয়। ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দে ৬ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষে আন্দোলন করতে গিয়ে পাকিস্তান প্রতিরক্ষা আইনে পুনরায় কারাবন্দী হন। ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি ঢাকা কেন্দ্রী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সদস্য এবং ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক নিবাচিত হন। ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে গণ আন্দোলনে ১১ দফা আন্দোলনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান করে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করায় ফজলুর হমান খান ফারুকসহ ১৮ জন গ্রেফতার হন। টাঙ্গাইলের ছাত্র-জনতা তাদের মুক্তির দাবিতে যে মিছিল বের করে সেই মিছিলে টাঙ্গাইলের ইতিহাসে পুলিশ প্রথম গুলিবর্ষণ করে এবং তাতে বিশ্বনাথ নামের এক যুবক নিহত হয়। ৬ দফা ও ১১ দফা আন্দোলনের ফলে ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে গণ অভ্যুত্থান হয়। ওই আন্দোলনে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরুপ ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তাকে প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন করার জন্য মনোনয়ন দেয় এবং তিনি সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের ৩ এপ্রিল ঢাকার বাইরে পকিবাহিনীর বিরুদ্ধে গোড়ান-সাটিয়াচড়া নামক স্থানে প্রথম প্রতিরোধযুদ্ধে সংগঠিত হয়। ওই সম্মুখ যুদ্ধে তিনি উপস্থিত থেকে নেতৃত্ব প্রদান করেন। ১১ নং সেক্টরে তিনি মুক্তিযোদ্ধা ট্রেনিং সেন্টারে রাজনৈতিক প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি আওয়ামীলীগ মনোনীত টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে তিনি মির্জাপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়া তিনি মির্জাপুর কলেজ, ওয়ার্শী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, দেওহাটা উচ্চ বিদ্যালয়, সোহাগপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, রাজাবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর প্রচেষ্টায় ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে মির্জাপুরের ২৬টি নতুন প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সরকারিকরণ করা হয়। এ সময়ই তিনি মির্জাপুরে ১৭৭টি গভীর নলকুপ স্থাপন করেন, যার মাধ্যমে ইরি ধানের আবাদ শুরু হয়। জননেতা ফজলুর রহমান খান ফারুক বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহচর মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সাবেক গণপরিষদ সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য, সাবেক টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান , টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামীলীগের দীর্ঘদিনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ২০২১ সালে একুশে পদক পান।