ঢাকা ০৮:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাউবির এমএসএস প্রোগ্রামে প্রথমবারের মতো তৃতীয় লিঙ্গের শিক্ষার্থীর ডিগ্রি অর্জন গাজীপুরের গাছায় দারুল হেদায়া কওমী মাদ্রাসার ৬ ছাত্রকে বলাৎকার শিক্ষক ও পরিচালক গ্রেপ্তার মক্কায় মসজিদে ‘অনৈতিক কাজ’, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ২ বাংলাদেশির নাম প্রকাশ চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বিশিষ্ট সমাজ সেবক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন টঙ্গীতে মাদকের বিস্তার, বাড়ছে ছিনতাই-অস্ত্রের ব্যবহার ৯ মাসে ৪০২ মামলা, গ্রেপ্তার ৯৫৬; অভিযানের পরও থামছে না অপরাধ গাজীপুরে গণমাধ্যমকর্মীকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি বিআরটিএতে ‘প্রভাবশালী’ মোটরযান পরিদর্শক খ্যাত মামুনুর রশিদ এর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ গাজীপুর মহানগরেতে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী, নির্বিকার সিটি কর্পোরেশন রাজধানীতে নারী থেকে পুরুষ হওয়ার স্বপ্নে অপারেশনের পর মৃত্যু হয় লিজার গাজীপুর টঙ্গীতে মাদক নির্মূলের নামে বস্তি উচ্ছেদের অভিযোগ, বস্তিবাসীর বিক্ষোভ

গাজীপুরে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিককে অপহরণ করে সংঘবদ্ধ হামলা ও হেনস্তা করে ভিডিও ধারণের আটক ৫

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৪৯:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬ ৮৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানার মালেকের বাড়ি এলাকায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এস-এর জেলা প্রতিনিধি (মাল্টিমিডিয়া) জাকারিয়া সিকদার। এ ঘটনায় সাংবাদিককে মারধর, আপত্তিকর ভিডিও ধারণ, ব্ল্যাকমেইল এবং মূল্যবান মালামাল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দুপুর আনুমানিক ২টা ৩৫ মিনিটে জাকারিয়া সিকদার গাজীপুর জেলা কারাগার এলাকা থেকে বোর্ডবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে তিনি জানতে পারেন, মালেকের বাড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ইউনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত কথিত ‘কবির আবাসিক হোটেল’-এ অসামাজিক কার্যকলাপ চলছে। তথ্যের সত্যতা যাচাই ও সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তিনি সেখানে যান।

অভিযোগ অনুযায়ী, হোটেলে প্রবেশের পর সেখানে অবস্থানরত কয়েকজন ব্যক্তি তাকে জোরপূর্বক একটি কক্ষে নিয়ে যায়। পরে তাকে আটকে রেখে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে তার আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করা হয়। একই সঙ্গে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং সঙ্গে থাকা নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ সময় অভিযুক্তরা মামলা করলে ধারণকৃত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয় বলে এজাহারে বলা হয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে জাকারিয়া সিকদারকে উদ্ধার করেন এবং শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার পর গাছা থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আবদুল আউয়াল সরদারের নেতৃত্বে পুলিশ অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার মিলন (১৮), কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার ওমর ফারুক (২৯), বগুড়ার নন্দিগ্রাম উপজেলার মধু (২০), কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার শাহ আলম মীর (৪৬) এবং গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার কবির ওরফে আব্দুল কাদের (৩৮)।

গাছা থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আবদুল আউয়াল সরদার জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই আবাসিক হোটেলকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। তারা বলেন, সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে একজন সাংবাদিকের ওপর এমন হামলা ও নির্যাতনের ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

এ ঘটনায় সাংবাদিক মহলে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিক নেতারা ঘটনার দ্রুত বিচার এবং দায়ীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

গাজীপুরে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিককে অপহরণ করে সংঘবদ্ধ হামলা ও হেনস্তা করে ভিডিও ধারণের আটক ৫

আপডেট সময় : ০২:৪৯:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানার মালেকের বাড়ি এলাকায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এস-এর জেলা প্রতিনিধি (মাল্টিমিডিয়া) জাকারিয়া সিকদার। এ ঘটনায় সাংবাদিককে মারধর, আপত্তিকর ভিডিও ধারণ, ব্ল্যাকমেইল এবং মূল্যবান মালামাল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দুপুর আনুমানিক ২টা ৩৫ মিনিটে জাকারিয়া সিকদার গাজীপুর জেলা কারাগার এলাকা থেকে বোর্ডবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে তিনি জানতে পারেন, মালেকের বাড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ইউনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত কথিত ‘কবির আবাসিক হোটেল’-এ অসামাজিক কার্যকলাপ চলছে। তথ্যের সত্যতা যাচাই ও সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তিনি সেখানে যান।

অভিযোগ অনুযায়ী, হোটেলে প্রবেশের পর সেখানে অবস্থানরত কয়েকজন ব্যক্তি তাকে জোরপূর্বক একটি কক্ষে নিয়ে যায়। পরে তাকে আটকে রেখে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে তার আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করা হয়। একই সঙ্গে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং সঙ্গে থাকা নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ সময় অভিযুক্তরা মামলা করলে ধারণকৃত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয় বলে এজাহারে বলা হয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে জাকারিয়া সিকদারকে উদ্ধার করেন এবং শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার পর গাছা থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আবদুল আউয়াল সরদারের নেতৃত্বে পুলিশ অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার মিলন (১৮), কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার ওমর ফারুক (২৯), বগুড়ার নন্দিগ্রাম উপজেলার মধু (২০), কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার শাহ আলম মীর (৪৬) এবং গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার কবির ওরফে আব্দুল কাদের (৩৮)।

গাছা থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আবদুল আউয়াল সরদার জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই আবাসিক হোটেলকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। তারা বলেন, সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে একজন সাংবাদিকের ওপর এমন হামলা ও নির্যাতনের ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

এ ঘটনায় সাংবাদিক মহলে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিক নেতারা ঘটনার দ্রুত বিচার এবং দায়ীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।