ঢাকা ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টঙ্গীতে ১০ হাজার পিচ ইয়াবা সহ দুই নারী আটক  রাজধানীতে বসছে ২৪ অস্থায়ী পশুর হাট, আফতাবনগরে ‘অনিশ্চিত’ যুবসমাজ রক্ষায় মাদককে না বলুন- গাছায় বিএনপির নেতার বিশাল র ্যালি ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে বিধবাকে ধ/র্ষণ গাজীপুরে গাছায় ১১ পিস ইয়াবাসহ নারী-পুরুষ গ্রেপ্তার গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার গাছা এলার বিভিন্ন ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন গাজীপুরে টঙ্গীতে স্বামীর গোপনাঙ্গ কর্তন স্ত্রী গ্রেফতার গাছা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আব্দুল হামিদ খান কে দেখতে জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে যান গাছা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃকামাল উদ্দিন। গাছা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আব্দুল হামিদ খান ভাই মহাখালী জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতাল  ভর্তি আছে সবাই তার জন্য দোয়া করবেন। দেশবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন গাছা প্রেসক্লাবে সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম

গাজীপুরে রমজানের আগেই রাবাব ফ্যাশন লিঃ লে-অফ ঘোষণা: অনিশ্চয়তায় ৭০০শত শ্রমিক

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:০৮:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৪৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জাকারিয়া হোসেন হিমেলঃ

পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতর ঘনিয়ে আসার মাহেন্দ্রক্ষণে গাজীপুরের রাবাব ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড কারখানাটি হঠাৎ লে-অফ ঘোষণা করায় শ্রমিকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও বিষাদ ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে কারখানার মূল ফটকে লে-অফ সংক্রান্ত নোটিশ ঝোলানো দেখে হতবাক হয়ে পড়েন কাজে আসা শ্রমিকরা। তাৎক্ষণিকভাবে তারা কারখানা খোলার দাবিতে ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন, যা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

​কারখানার ভেতরে কর্মরত প্রায় সাত শতাধিক শ্রমিকের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। শ্রমিক মশিউর রহমান জানান, মালিকপক্ষের সাথে তাদের সম্পর্ক বরাবরই ভালো ছিল, কিন্তু চলতি মাসের বেতন বকেয়া থাকা অবস্থায় এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। সামনে রোজা এবং এরপরই ঈদ, এমন সময়ে কর্মসংস্থান হারানো মানে পরিবার নিয়ে পথে বসা। শ্রমিকরা বর্তমানে মালিকপক্ষের সাথে আলোচনার অপেক্ষায় রয়েছেন এবং সমাধান না এলে শ্রমিক নেতাদের সাথে পরামর্শ করে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

​গাজীপুর শিল্প পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শিল্প পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন। কারখানা কর্তৃপক্ষের নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত কয়েক মাস ধরে কাঁচামাল সংগ্রহে জটিলতা এবং বিদেশি ক্রেতাদের ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ার পাশাপাশি অনেক অর্ডার বাতিল হয়েছে। নতুন অর্ডারের অভাবে প্রতিষ্ঠানটি ভয়াবহ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ায় উৎপাদন কার্যক্রম চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলশ্রুতিতে, বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৪ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত কারখানাটি লে-অফ ঘোষণা করা হয়েছে।

​কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লে-অফ চলাকালীন শ্রমিকদের আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে এবং এই সময়ে নিরাপত্তা কর্মী ব্যতীত অন্য কারোর উপস্থিত থাকার প্রয়োজন নেই। তবে এই সংকটময় মুহূর্তে কারখানাটির ডিজিএম মোহাম্মদ শাহীনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে বকেয়া বেতন ও আসন্ন উৎসবের খরচ নিয়ে শ্রমিকদের দীর্ঘশ্বাস এখন গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে ভারী হয়ে উঠেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

গাজীপুরে রমজানের আগেই রাবাব ফ্যাশন লিঃ লে-অফ ঘোষণা: অনিশ্চয়তায় ৭০০শত শ্রমিক

আপডেট সময় : ০২:০৮:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জাকারিয়া হোসেন হিমেলঃ

পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতর ঘনিয়ে আসার মাহেন্দ্রক্ষণে গাজীপুরের রাবাব ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড কারখানাটি হঠাৎ লে-অফ ঘোষণা করায় শ্রমিকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও বিষাদ ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে কারখানার মূল ফটকে লে-অফ সংক্রান্ত নোটিশ ঝোলানো দেখে হতবাক হয়ে পড়েন কাজে আসা শ্রমিকরা। তাৎক্ষণিকভাবে তারা কারখানা খোলার দাবিতে ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন, যা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

​কারখানার ভেতরে কর্মরত প্রায় সাত শতাধিক শ্রমিকের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। শ্রমিক মশিউর রহমান জানান, মালিকপক্ষের সাথে তাদের সম্পর্ক বরাবরই ভালো ছিল, কিন্তু চলতি মাসের বেতন বকেয়া থাকা অবস্থায় এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। সামনে রোজা এবং এরপরই ঈদ, এমন সময়ে কর্মসংস্থান হারানো মানে পরিবার নিয়ে পথে বসা। শ্রমিকরা বর্তমানে মালিকপক্ষের সাথে আলোচনার অপেক্ষায় রয়েছেন এবং সমাধান না এলে শ্রমিক নেতাদের সাথে পরামর্শ করে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

​গাজীপুর শিল্প পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শিল্প পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন। কারখানা কর্তৃপক্ষের নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত কয়েক মাস ধরে কাঁচামাল সংগ্রহে জটিলতা এবং বিদেশি ক্রেতাদের ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ার পাশাপাশি অনেক অর্ডার বাতিল হয়েছে। নতুন অর্ডারের অভাবে প্রতিষ্ঠানটি ভয়াবহ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ায় উৎপাদন কার্যক্রম চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলশ্রুতিতে, বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৪ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত কারখানাটি লে-অফ ঘোষণা করা হয়েছে।

​কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লে-অফ চলাকালীন শ্রমিকদের আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে এবং এই সময়ে নিরাপত্তা কর্মী ব্যতীত অন্য কারোর উপস্থিত থাকার প্রয়োজন নেই। তবে এই সংকটময় মুহূর্তে কারখানাটির ডিজিএম মোহাম্মদ শাহীনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে বকেয়া বেতন ও আসন্ন উৎসবের খরচ নিয়ে শ্রমিকদের দীর্ঘশ্বাস এখন গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে ভারী হয়ে উঠেছে।