গাজীপুরে ট্রেন দুর্ঘটনা:নাশ’কতার মামলায় গ্রে’ফতার গা’সিক কাউ’ন্সিলর
- আপডেট সময় : ০১:১০:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুলাই ২০২৪ ২৭৫ বার পড়া হয়েছে

জাকারিয়া হোসেন হিমেলঃ
গাজীপুর জেলার শ্রীপুরের বন খড়িয়ায় গত ১৩ ডিসেম্বর রেল লাইন কেটে নাশকতা সৃষ্টির মামলায় গাজীপুর সিটি করপোরেশন এক কাউন্সিলরকে ঢাকায় বিমান বন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ মামলায় ইতিপূর্বে গ্রেফতার আসামীদের স্বীকারোক্তিতে তার নাম আসায় তাকে বুধবার রাতে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার হওয়া কাউন্সিলরের নাম শাহিন আলম। তিনি গাজীপুর মহানগরীর দক্ষিণ সালনা এলাকার মৃত ফাইজুদ্দিনের ছেলে। তিনি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১৯ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। তিনি ১৯ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে গত সিটি নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তারপরেও তিনি নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছিলেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) রাতে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী সংস্থা গাজীপুরের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর পুলিশ সুপার মো: মাকসুদের রহমান। তিনি জানান, গ্রেফতার কাউন্সিলর সিঙ্গাপুর যাওয়ার চেষ্টাকালে বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে। পরে আমরা তাকে নিয়ে আসি। বৃহস্পতিবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
২০২৩ সালের ১৩ ডিসেম্বর একদল দুষ্কৃতিকারী ভোর আনুমানিক ৩ টা থেকে ৪ টার মধ্যে গাজীপুর জেলাধীন শ্রীপুর উপজেলার প্রহলাদপুর ইউনিয়নের বনঘরিয়া চিনাই রেল ব্রীজের পাশে ২০ ফুট রেল লাইন কেটে ফেলে। এতে মোহনগঞ্জ থেকে ঢাকা গামী মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে ট্রেনটির ইঞ্জিনসহ সাতটি বগি লাইনচ্যুত হয়। উদ্ধারক্ত দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে একজন নিহত হয় এবং ১০ জন হয়। ওই ঘটনায় ২৭ ঘণ্টা ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে।
এ ঘটনার ৩৮ ঘণ্টা পর বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়। এ নাশকতার করার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিপূর্বে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ২৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ২৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি হাসান আজমল ভুইয়াসহ ৭জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। গ্রেফতার ৭ আসামীর মধ্যে ৫ জন আসামী ঢাকা জেলার চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্ধী দিয়েছে। তাদের জবানবন্দীতে শাহীন আলমের নাম প্রকাশ পায়।
তিনি আরো জানান, পূর্বে গ্রেফতার আসামীরা হলো, গাজীপুর মহানগরীর সদর থানাধীন উত্তর ছায়াবিথী এলাকার মৃত সোলায়মান মোড়লের ছেলে শাহানুর আলম (৫০), নেত্রকোনা জেলার মদন থানার বারই বাজার এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে (বর্তমানে গাজীপুর মহানগরীর সদর থানাধীন ২৮ নং ওয়ার্ডের ভাড়াটিয়া) জান্নাতুল ইসলাম (২০), ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা থানাধীন বান্দীয়া গ্রামের তাইজুদ্দীনের ছেলে মেহেদী হাসান (২৫), গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ২৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মৃত বিল্লাল হোসেন ভূঁইয়ার ছেলে আজমল হোসেন ভূঁইয়া (৫০), গাজীপুর মহানগরীর সদর থানাধীন ভানোয়া ২৪নং ওয়ার্ডের তারিকুল ইসলাম দিপুর ছেলে জুলকার নাইন আশরাফি ওরফে হৃদয় (৩৫), গাজীপুর মহানগরীর সদর থানাধীন কানাইয়া পূর্বপাড়া এলাকার মৃত ওমেদ আলী মোল্লার ছেলে মোঃ সাইদুল ইসলাম (৩২) ও গাজীপুর মহানগরীর সদর থানাধীন মধ্য ছায়াবিধি, ২৮নং ওয়ার্ডের আফতাফ উদ্দিনের ছেলে সোহেল রানা (৩৮)।












