ঢাকা ০৪:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গাজীপুরে চাঁদাবাজি ও হামলার অভিযোগে বহিষ্কৃত যুবদল নেতাসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা কারখানায় পানি পান করে হাসপাতালে শতাধিক শ্রমিক রুবেল সরকারসহ ৯ জনের নামে চাঁদাবাজির মামলা, অজ্ঞাত আরও ৩০ গাজীপুরে ৬৪ বোতল ফেনসিডিল ও ইয়াবাসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার গাজীপুরের টঙ্গীতে টিউমার অপারেশনের পর তরুণীর মৃত্যু, মাইশা হাসপাতাল নিয়ে নতুন প্রশ্ন ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা ম্যাচের সূচি_ বিশ্বকাপ ফুটবল_2026 গাজীপুরে সাংবাদিক পরিচয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে টাকা দাবি, বেরসিক ম্যাজিস্ট্রেট ৫ সাংবাদিককে দিলো ৩ মাসের জেল যারা ফুটবল খেলা বুঝে তারা ব্রাজিল করে অপু বিশ্বাস রাজধানীর রামপুরা এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিন খান পলাশ গুলিবিদ্ধ গাজীপুরে পোশাক কারখানায় আগুন,নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৫ ইউনিট

গাজীপুরে তিতাস কর্মকর্তা সেজে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি,দুই কথিত সাংবাদিকসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা গ্রেফতার ২

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৪৩:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬ ৭০ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জাকারিয়া হোসেন হিমেলঃ

গাজীপুর মহানগরের গাছা এলাকায় তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তা, ম্যাজিস্ট্রেট ও সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে দুই কথিত সাংবাদিকসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই অভিযুক্তকে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

মামলার এজাহার, স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, সোমবার বিকেল ৫টার দিকে গাছা থানাধীন পূর্ব কলমেশ্বর সিটপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. আয়নাল হকের বাড়িতে মিন্টু দেওয়ান মিন্টু ও শ্রাবন্তী আক্তার নামের দুই ব্যক্তি যান। তারা নিজেদের তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে আয়নাল হকের বাড়িতে অবৈধ গ্যাস সংযোগ রয়েছে বলে দাবি করেন। এ সময় তারা ম্যাজিস্ট্রেট এনে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা, মোটা অঙ্কের জরিমানা আদায় এবং জেলহাজতে পাঠানোর হুমকি দেন।

অভিযোগে বলা হয়, ওইদিন রাত ৯টার দিকে মিন্টু একাই পুনরায় আয়নাল হকের বাড়িতে যান এবং তাকে ও তার স্ত্রীকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। একপর্যায়ে বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।

ঘটনাটি সন্দেহজনক মনে হলে আয়নাল হক স্থানীয় বাসিন্দাদের খবর দেন। পরে এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে মিন্টুর পরিচয় জানতে চাইলে তিনি প্রথমে নিজেকে তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তা এবং পরে ম্যাজিস্ট্রেট বলে দাবি করেন। স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তিনি আবার নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দেন এবং একটি অনলাইন গণমাধ্যমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলে দাবি করেন।

উপস্থিত সাংবাদিক ও এলাকাবাসীর জিজ্ঞাসাবাদে মিন্টু জানান, আয়নাল হকের প্রতিবেশী জয়নাল এবং তার বোনের জামাই আশরাফের কথায় তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। এ সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি নিজেই জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দেন।

খবর পেয়ে গাছা থানার এসআই আনোয়ারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মিন্টুর পরিচয় নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে গাছা থানায় নিয়ে তার পরিচয় যাচাই-বাছাই শুরু করে পুলিশ। এ সময় তার কাছে একাধিক গণমাধ্যমের পরিচয়পত্র পাওয়া যায়। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পুলিশ ও উপস্থিত সাংবাদিকরা কোনো সাড়া পাননি।

পরবর্তীতে ভুক্তভোগী আয়নাল হক গাছা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে তদন্ত শেষে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়। মামলার অপর আসামি শ্রাবন্তী আক্তারকে পরবর্তীতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে প্রধান আসামি মিন্টু দেওয়ান মিন্টু ও শ্রাবন্তী আক্তারকে একসঙ্গে আদালতে প্রেরণ করা হয়।

গাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অহিদুজ্জামান জানান, ঘটনাস্থল থেকে এসআই আনোয়ারের নেতৃত্বে পুলিশ মিন্টুকে হেফাজতে নিয়ে আসে। পরে থানায় তার পরিচয় ও ঘটনাটির বিভিন্ন দিক যাচাই-বাছাই করা হয়। ভুক্তভোগী আয়নাল হকের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শেষে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলার আসামিরা হলেন— কিশোরগঞ্জ জেলার বাসিন্দা মো. মিন্টু দেওয়ান মিন্টু (৩১), শ্রাবন্তী আক্তার (২৮), মো. জয়নাল (৩০) এবং মো. আশরাফ (৩৫)।

ওসি অহিদুজ্জামান বলেন, “সাংবাদিকতা একটি মহৎ পেশা। রাষ্ট্র ও প্রশাসনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কিন্তু কিছু ব্যক্তি ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করে সাংবাদিক পরিচয়ে প্রতারণা করায় প্রকৃত সাংবাদিকদেরও বিভিন্ন সময় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। কেউ সরকারি কর্মকর্তা, ম্যাজিস্ট্রেট বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ পরিচয় দিলে সাধারণ মানুষকে তার পরিচয় যাচাই করার পরামর্শ দিচ্ছি। সন্দেহজনক কিছু মনে হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “মামলার অপর দুই আসামি জয়নাল ও আশরাফের সম্পৃক্ততার বিষয়েও তদন্ত চলছে। তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। এ ঘটনায় জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”

এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

(উল্লেখ্য, মামলাটি তদন্তাধীন। আদালতে দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তরা আইনগতভাবে নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।)

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

গাজীপুরে তিতাস কর্মকর্তা সেজে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি,দুই কথিত সাংবাদিকসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা গ্রেফতার ২

আপডেট সময় : ০২:৪৩:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

জাকারিয়া হোসেন হিমেলঃ

গাজীপুর মহানগরের গাছা এলাকায় তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তা, ম্যাজিস্ট্রেট ও সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে দুই কথিত সাংবাদিকসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই অভিযুক্তকে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

মামলার এজাহার, স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, সোমবার বিকেল ৫টার দিকে গাছা থানাধীন পূর্ব কলমেশ্বর সিটপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. আয়নাল হকের বাড়িতে মিন্টু দেওয়ান মিন্টু ও শ্রাবন্তী আক্তার নামের দুই ব্যক্তি যান। তারা নিজেদের তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে আয়নাল হকের বাড়িতে অবৈধ গ্যাস সংযোগ রয়েছে বলে দাবি করেন। এ সময় তারা ম্যাজিস্ট্রেট এনে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা, মোটা অঙ্কের জরিমানা আদায় এবং জেলহাজতে পাঠানোর হুমকি দেন।

অভিযোগে বলা হয়, ওইদিন রাত ৯টার দিকে মিন্টু একাই পুনরায় আয়নাল হকের বাড়িতে যান এবং তাকে ও তার স্ত্রীকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। একপর্যায়ে বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।

ঘটনাটি সন্দেহজনক মনে হলে আয়নাল হক স্থানীয় বাসিন্দাদের খবর দেন। পরে এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে মিন্টুর পরিচয় জানতে চাইলে তিনি প্রথমে নিজেকে তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তা এবং পরে ম্যাজিস্ট্রেট বলে দাবি করেন। স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তিনি আবার নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দেন এবং একটি অনলাইন গণমাধ্যমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলে দাবি করেন।

উপস্থিত সাংবাদিক ও এলাকাবাসীর জিজ্ঞাসাবাদে মিন্টু জানান, আয়নাল হকের প্রতিবেশী জয়নাল এবং তার বোনের জামাই আশরাফের কথায় তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। এ সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি নিজেই জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দেন।

খবর পেয়ে গাছা থানার এসআই আনোয়ারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মিন্টুর পরিচয় নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে গাছা থানায় নিয়ে তার পরিচয় যাচাই-বাছাই শুরু করে পুলিশ। এ সময় তার কাছে একাধিক গণমাধ্যমের পরিচয়পত্র পাওয়া যায়। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পুলিশ ও উপস্থিত সাংবাদিকরা কোনো সাড়া পাননি।

পরবর্তীতে ভুক্তভোগী আয়নাল হক গাছা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে তদন্ত শেষে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়। মামলার অপর আসামি শ্রাবন্তী আক্তারকে পরবর্তীতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে প্রধান আসামি মিন্টু দেওয়ান মিন্টু ও শ্রাবন্তী আক্তারকে একসঙ্গে আদালতে প্রেরণ করা হয়।

গাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অহিদুজ্জামান জানান, ঘটনাস্থল থেকে এসআই আনোয়ারের নেতৃত্বে পুলিশ মিন্টুকে হেফাজতে নিয়ে আসে। পরে থানায় তার পরিচয় ও ঘটনাটির বিভিন্ন দিক যাচাই-বাছাই করা হয়। ভুক্তভোগী আয়নাল হকের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শেষে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলার আসামিরা হলেন— কিশোরগঞ্জ জেলার বাসিন্দা মো. মিন্টু দেওয়ান মিন্টু (৩১), শ্রাবন্তী আক্তার (২৮), মো. জয়নাল (৩০) এবং মো. আশরাফ (৩৫)।

ওসি অহিদুজ্জামান বলেন, “সাংবাদিকতা একটি মহৎ পেশা। রাষ্ট্র ও প্রশাসনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কিন্তু কিছু ব্যক্তি ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করে সাংবাদিক পরিচয়ে প্রতারণা করায় প্রকৃত সাংবাদিকদেরও বিভিন্ন সময় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। কেউ সরকারি কর্মকর্তা, ম্যাজিস্ট্রেট বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ পরিচয় দিলে সাধারণ মানুষকে তার পরিচয় যাচাই করার পরামর্শ দিচ্ছি। সন্দেহজনক কিছু মনে হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “মামলার অপর দুই আসামি জয়নাল ও আশরাফের সম্পৃক্ততার বিষয়েও তদন্ত চলছে। তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। এ ঘটনায় জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”

এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

(উল্লেখ্য, মামলাটি তদন্তাধীন। আদালতে দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তরা আইনগতভাবে নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।)