ঢাকা ০৩:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিআরটিএতে ‘প্রভাবশালী’ মোটরযান পরিদর্শক খ্যাত মামুনুর রশিদ এর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ গাজীপুর মহানগরেতে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী, নির্বিকার সিটি কর্পোরেশন রাজধানীতে নারী থেকে পুরুষ হওয়ার স্বপ্নে অপারেশনের পর মৃত্যু হয় লিজার গাজীপুর টঙ্গীতে মাদক নির্মূলের নামে বস্তি উচ্ছেদের অভিযোগ, বস্তিবাসীর বিক্ষোভ গাজীপুরের মৈরান ইনারপাড়ায় নিথর দেহের ওপর দিয়ে চলছে গাড়ি, পরিচয় সনাক্তের চে’ষ্টা গাজীপুরে ঘুমন্ত স্বামীর পুরুষাঙ্গ কাটার অভিযোগ স্ত্রীর বিরুদ্ধে গাজীপুরে বিএনপির ছত্রছায়ায় ঈদগাহ কমিটির আ’লীগ নেতারা গাজীপুর মহানগরে গাছা থানাধীন স্বর্ণ ব্যবসায়ীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার কারখানার ঝুট ব্যবসা ঘিরে গাজীপুরে তাণ্ডব, সাংবাদিককে কু/পি/য়ে জখমের অভিযোগ প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ও নিন্দা

গাজীপুর মহানগরেতে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী, নির্বিকার সিটি কর্পোরেশন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৫:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জাকারিয়া হোসেন হিমেলঃ

গাজীপুর মহানগরেতে ডেঙ্গু রোগীর চাপ বাড়ছে। শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৪৭৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন ১১৮ জন। ডেঙ্গুতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মহানগরের কোনাবাড়ী ও কাশিমপুরকে ডেঙ্গু রোগীর হটস্পট মনে করছেন।এছাড়াও
গাছা জোনের ৩৬,৩৭ নং ওয়ার্ড
ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েচিকিৎসা নিচ্ছেন। এ অবস্থায় মশক নিধনে সিটি কর্পোরেশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নগরবাসীর অভিযোগ, মশক নিধনে সিটি কর্পোরেশনের প্রায় ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়েনি।

স্থানীয়দের ভাষ্য, কোনাবাড়ীর পাশের কড্ডা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ময়লা জমে আছে। বাইমাইল এলাকাতেও নতুন করে ময়লা ফেলা হচ্ছে। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম প্রয়োজনের তুলনায় কম হওয়ায় এলাকায় ডেঙ্গু শনাক্তের হার বাড়ছে বলে তাঁদের অভিযোগ।

কোনাবাড়ীর আমবাগ এলাকার বাসিন্দা সুলতান আহমেদ ও তাঁর স্ত্রী গত এক সপ্তাহ ধরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। জরুন এলাকার নুরুল হক, তাঁর স্ত্রী ও ছেলে—তিনজনই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

গত ২৬ আগস্ট ডেঙ্গুতে কলেজশিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার মিতুর মৃত্যু হয়। এর দুই দিন আগে, ২৪ আগস্ট জরুন দক্ষিণ কাশিমপুরে ডেঙ্গুতে সাত বছর বয়সী শিশু সাদিয়ার মৃত্যু হয়।

আজ বুধবার দুপুরে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ডেঙ্গু কর্নারে রোগীর চাপ বেশি। পর্যাপ্ত শয্যা না থাকায় রোগীদের মেঝে, বারান্দা ও সিঁড়িতে বসে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। পরীক্ষার জন্য দলবদ্ধ হয়ে মানুষ আসছেন বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।

ডেঙ্গু ওয়ার্ডে দায়িত্বে থাকা একজন নার্স বলেন, বর্তমানে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। বেশির ভাগ রোগী আসছে কোনাবাড়ী ও কাশিমপুর এলাকা থেকে। হাসপাতালে রোগীর তুলনায় জনবল কম থাকায় সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আমাদের অনেক কষ্ট হচ্ছে।

ডেঙ্গু আক্রান্ত এক রোগীর স্বজন আল আমিন বলেন, হাসপাতালে একটি শয্যাও খালি নেই। বাধ্য হয়ে মেঝেতে শুইয়ে চিকিৎসা করানো হচ্ছে। আক্রান্তদের অনেকেই শয্যা না পেয়ে হাসপাতালের মেঝে, বারান্দা, এমনকি সিঁড়িতেও চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন।

শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আমিনুল ইসলাম বলেন,এটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, অনেক শ্রমিক একসঙ্গে থাকেন। তাঁদের স্বাস্থ্যসচেতনতার অভাব রয়েছে। ওই দিকে একটু গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তিনি জানান, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৪৭৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন ১১৮ জন। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

তবে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার বলেন, ‘গাজীপুরে ডেঙ্গু মারাত্মক আকার ধারণ করছে বা কেউ মারা গেছে, এমন খবর নেই। আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে, যাতে আমাদের নগরের কোনো মানুষ মশার কামড়ে আক্রান্ত না হয়। মহামারি যাতে ছড়িয়ে না পড়ে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

গাজীপুর মহানগরেতে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী, নির্বিকার সিটি কর্পোরেশন

আপডেট সময় : ০৩:৫৫:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাকারিয়া হোসেন হিমেলঃ

গাজীপুর মহানগরেতে ডেঙ্গু রোগীর চাপ বাড়ছে। শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৪৭৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন ১১৮ জন। ডেঙ্গুতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মহানগরের কোনাবাড়ী ও কাশিমপুরকে ডেঙ্গু রোগীর হটস্পট মনে করছেন।এছাড়াও
গাছা জোনের ৩৬,৩৭ নং ওয়ার্ড
ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েচিকিৎসা নিচ্ছেন। এ অবস্থায় মশক নিধনে সিটি কর্পোরেশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নগরবাসীর অভিযোগ, মশক নিধনে সিটি কর্পোরেশনের প্রায় ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়েনি।

স্থানীয়দের ভাষ্য, কোনাবাড়ীর পাশের কড্ডা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ময়লা জমে আছে। বাইমাইল এলাকাতেও নতুন করে ময়লা ফেলা হচ্ছে। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম প্রয়োজনের তুলনায় কম হওয়ায় এলাকায় ডেঙ্গু শনাক্তের হার বাড়ছে বলে তাঁদের অভিযোগ।

কোনাবাড়ীর আমবাগ এলাকার বাসিন্দা সুলতান আহমেদ ও তাঁর স্ত্রী গত এক সপ্তাহ ধরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। জরুন এলাকার নুরুল হক, তাঁর স্ত্রী ও ছেলে—তিনজনই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

গত ২৬ আগস্ট ডেঙ্গুতে কলেজশিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার মিতুর মৃত্যু হয়। এর দুই দিন আগে, ২৪ আগস্ট জরুন দক্ষিণ কাশিমপুরে ডেঙ্গুতে সাত বছর বয়সী শিশু সাদিয়ার মৃত্যু হয়।

আজ বুধবার দুপুরে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ডেঙ্গু কর্নারে রোগীর চাপ বেশি। পর্যাপ্ত শয্যা না থাকায় রোগীদের মেঝে, বারান্দা ও সিঁড়িতে বসে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। পরীক্ষার জন্য দলবদ্ধ হয়ে মানুষ আসছেন বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।

ডেঙ্গু ওয়ার্ডে দায়িত্বে থাকা একজন নার্স বলেন, বর্তমানে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। বেশির ভাগ রোগী আসছে কোনাবাড়ী ও কাশিমপুর এলাকা থেকে। হাসপাতালে রোগীর তুলনায় জনবল কম থাকায় সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আমাদের অনেক কষ্ট হচ্ছে।

ডেঙ্গু আক্রান্ত এক রোগীর স্বজন আল আমিন বলেন, হাসপাতালে একটি শয্যাও খালি নেই। বাধ্য হয়ে মেঝেতে শুইয়ে চিকিৎসা করানো হচ্ছে। আক্রান্তদের অনেকেই শয্যা না পেয়ে হাসপাতালের মেঝে, বারান্দা, এমনকি সিঁড়িতেও চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন।

শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আমিনুল ইসলাম বলেন,এটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, অনেক শ্রমিক একসঙ্গে থাকেন। তাঁদের স্বাস্থ্যসচেতনতার অভাব রয়েছে। ওই দিকে একটু গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তিনি জানান, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৪৭৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন ১১৮ জন। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

তবে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার বলেন, ‘গাজীপুরে ডেঙ্গু মারাত্মক আকার ধারণ করছে বা কেউ মারা গেছে, এমন খবর নেই। আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে, যাতে আমাদের নগরের কোনো মানুষ মশার কামড়ে আক্রান্ত না হয়। মহামারি যাতে ছড়িয়ে না পড়ে।