ঢাকা ১২:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টঙ্গীতে ১০ হাজার পিচ ইয়াবা সহ দুই নারী আটক  রাজধানীতে বসছে ২৪ অস্থায়ী পশুর হাট, আফতাবনগরে ‘অনিশ্চিত’ যুবসমাজ রক্ষায় মাদককে না বলুন- গাছায় বিএনপির নেতার বিশাল র ্যালি ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে বিধবাকে ধ/র্ষণ গাজীপুরে গাছায় ১১ পিস ইয়াবাসহ নারী-পুরুষ গ্রেপ্তার গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার গাছা এলার বিভিন্ন ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন গাজীপুরে টঙ্গীতে স্বামীর গোপনাঙ্গ কর্তন স্ত্রী গ্রেফতার গাছা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আব্দুল হামিদ খান কে দেখতে জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে যান গাছা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃকামাল উদ্দিন। গাছা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আব্দুল হামিদ খান ভাই মহাখালী জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতাল  ভর্তি আছে সবাই তার জন্য দোয়া করবেন। দেশবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন গাছা প্রেসক্লাবে সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম

ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে বিধবাকে ধ/র্ষণ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৩৩:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

ফরিদপুরে ফ্যামিলি কার্ড ও বিধবা ভাতা কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে আবাসিক হোটেলে নিয়ে এক নারীকে (৪৩) ধ/র্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মা/মলা করেছেন ভুক্তভোগী।

ঘটনার পর ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস (ওসিসি) সেন্টারে চারদিন চিকিৎসা নিয়ে বর্তমানে বাড়িতে রয়েছেন ওই নারী। গত দুই এপ্রিল এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী নারী ফরিদপুর পৌরসভার বাসিন্দা। অভিযুক্ত সুজন শেখ (৩৫) শহরের পশ্চিম আলীপুর এলাকার মৃত হালিম শেখের ছেলে। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে তার সখ্য রয়েছে বলে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নিশ্চিত করেছেন।

বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে ভুক্তভোগী নারীর বাড়িতে দেখা যায়, একটি জরাজীর্ণ ছোট্ট টিনের ছাপরা ঘরে তার বসবাস। ঘরে নেই তেমন কোনো আসবাবপত্র। টিনের চালার ওপরে টানানো রয়েছে প্লাস্টিকের বস্তাসহ পলিথিন। বৃষ্টি নামলেই পানি পড়ে। এ ঘরটিতেই একমাত্র ছেলেকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। এসময় কাঁদতে কাঁদতে ঘর থেকে বের হয়ে আসেন ওই নারী।

ভুক্তভোগী নারী জানান, ১০ বছর আগে তার স্বামী মারা যান। এরপর থেকে অন্যের বাসাবাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। খেয়ে না খেয়ে দিন কাটে তার। তবে আজ পর্যন্ত কোনো সরকারি সহায়তা পাননি। সম্প্রতি তাকে ফ্যামিলি কার্ড ও বিধবাভাতার কার্ড করে দেওয়ার আশ্বাস দেন প্রতিবেশী সুজন শেখ।

কার্ড করে দিতে উপজেলা পরিষদে যাওয়ার কথা বলেন সুজন শেখ। ২ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে তিনি সুজনের সঙ্গে রিকশাযোগে রওয়ানা হন। এরপর শহরের গোয়ালচামটে পুরাতন বাসটার্মিনালের ভাঙা রাস্তার মোড়ে নিয়ে নামানো হয়। সেখান থেকে নতুন বাসটার্মিনাল সড়কের দিকে কিছু দূর পায়ে হেঁটে একটি আবাসিক হোটেলের সামনে নেওয়া হয়। এসময় ওই নারীকে জানানো হয়, এখানেই অফিস। এরপর আবাসিক হোটেলে নিয়ে তাকে ধ/র্ষণ করা হয়।

পরে ওই নারী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চারদিন চিকিৎসা নিয়ে ৬ এপ্রিল বাড়ি ফিরে আসেন। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।

ভুক্তভোগী নারী অভিযুক্তের বিচারের দাবি জানিয়ে বলেন, ‘আমিতো অফিস চিনি না। সুজনের কথা অনুযায়ী সেখানে গেছিলাম। কারণ আমার স্বামী নেই। সংসারে অভাব-অনটন থাকায় সরকারের সুবিধা পাওয়ার জন্য বিশ্বাস করে সুজনের সঙ্গে গিয়েছি। কিন্তু আমার জীবনডারে শেষ কইর‍্যা দিলো। আমি ওর বিচার চাই।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সুজন শেখ। তিনি বলেন, ‘ষড়যন্ত্র করে আমার নামে মিথ্যা বলা হচ্ছে। ওই মহিলা কার্ড করার জন্য মাঝে মাঝেই আমার বাড়িতে আসত। ওইদিনও আমার বাড়িতে আসে। তখন আমি উত্তেজিত হয়ে জোরে একটি লাথি মেরেছিলাম। এই কারণে আমার নামে মিথ্যা কথা বলে বেড়াচ্ছে।’

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এক বিধবা নারীর অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী মামলা করেছেন। অভিযুক্তকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে বিধবাকে ধ/র্ষণ

আপডেট সময় : ১০:৩৩:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

ফরিদপুরে ফ্যামিলি কার্ড ও বিধবা ভাতা কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে আবাসিক হোটেলে নিয়ে এক নারীকে (৪৩) ধ/র্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মা/মলা করেছেন ভুক্তভোগী।

ঘটনার পর ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস (ওসিসি) সেন্টারে চারদিন চিকিৎসা নিয়ে বর্তমানে বাড়িতে রয়েছেন ওই নারী। গত দুই এপ্রিল এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী নারী ফরিদপুর পৌরসভার বাসিন্দা। অভিযুক্ত সুজন শেখ (৩৫) শহরের পশ্চিম আলীপুর এলাকার মৃত হালিম শেখের ছেলে। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে তার সখ্য রয়েছে বলে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নিশ্চিত করেছেন।

বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে ভুক্তভোগী নারীর বাড়িতে দেখা যায়, একটি জরাজীর্ণ ছোট্ট টিনের ছাপরা ঘরে তার বসবাস। ঘরে নেই তেমন কোনো আসবাবপত্র। টিনের চালার ওপরে টানানো রয়েছে প্লাস্টিকের বস্তাসহ পলিথিন। বৃষ্টি নামলেই পানি পড়ে। এ ঘরটিতেই একমাত্র ছেলেকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। এসময় কাঁদতে কাঁদতে ঘর থেকে বের হয়ে আসেন ওই নারী।

ভুক্তভোগী নারী জানান, ১০ বছর আগে তার স্বামী মারা যান। এরপর থেকে অন্যের বাসাবাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। খেয়ে না খেয়ে দিন কাটে তার। তবে আজ পর্যন্ত কোনো সরকারি সহায়তা পাননি। সম্প্রতি তাকে ফ্যামিলি কার্ড ও বিধবাভাতার কার্ড করে দেওয়ার আশ্বাস দেন প্রতিবেশী সুজন শেখ।

কার্ড করে দিতে উপজেলা পরিষদে যাওয়ার কথা বলেন সুজন শেখ। ২ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে তিনি সুজনের সঙ্গে রিকশাযোগে রওয়ানা হন। এরপর শহরের গোয়ালচামটে পুরাতন বাসটার্মিনালের ভাঙা রাস্তার মোড়ে নিয়ে নামানো হয়। সেখান থেকে নতুন বাসটার্মিনাল সড়কের দিকে কিছু দূর পায়ে হেঁটে একটি আবাসিক হোটেলের সামনে নেওয়া হয়। এসময় ওই নারীকে জানানো হয়, এখানেই অফিস। এরপর আবাসিক হোটেলে নিয়ে তাকে ধ/র্ষণ করা হয়।

পরে ওই নারী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চারদিন চিকিৎসা নিয়ে ৬ এপ্রিল বাড়ি ফিরে আসেন। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।

ভুক্তভোগী নারী অভিযুক্তের বিচারের দাবি জানিয়ে বলেন, ‘আমিতো অফিস চিনি না। সুজনের কথা অনুযায়ী সেখানে গেছিলাম। কারণ আমার স্বামী নেই। সংসারে অভাব-অনটন থাকায় সরকারের সুবিধা পাওয়ার জন্য বিশ্বাস করে সুজনের সঙ্গে গিয়েছি। কিন্তু আমার জীবনডারে শেষ কইর‍্যা দিলো। আমি ওর বিচার চাই।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সুজন শেখ। তিনি বলেন, ‘ষড়যন্ত্র করে আমার নামে মিথ্যা বলা হচ্ছে। ওই মহিলা কার্ড করার জন্য মাঝে মাঝেই আমার বাড়িতে আসত। ওইদিনও আমার বাড়িতে আসে। তখন আমি উত্তেজিত হয়ে জোরে একটি লাথি মেরেছিলাম। এই কারণে আমার নামে মিথ্যা কথা বলে বেড়াচ্ছে।’

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এক বিধবা নারীর অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী মামলা করেছেন। অভিযুক্তকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’