ঢাকা ০৪:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গাজীপুরে ভূমি অফিসের ৪জন সাময়িক বহিষ্কার  স্বপন বেপারীর গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে এলাকাবাসীর মানববন্ধন; কোস্ট গার্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ গাজীপুরে বাসন থানাধীন আবাসিক হোটেল থেকে ২ নারী ‘মুফতি’সহ আটক ৭ কালীগঞ্জের সবজি বিক্রেতা যেভাবে হয়ে উঠলেন কোটিপতি— মানবপাচারের অন্ধকার সাম্রাজ্যের নেপথ্যকথা! গাজীপুরে এনসিপি নেতা এসকে শাকিলের বাড়িতে  স/ন্ত্রা/সী হা/ম/লা/র প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন ফেসবুকে অপপ্রচারের অভিযোগে সাইবার ক্রাইম মামলায় গাছা থানায় শাহাদাত গাজী আটক আমরা এখানে শুধু খেলতে আসিনি, আমরা পুরো বিশ্বের কাছে কেপ ভার্দেকে পরিচিত করাতে এসেছি। আমাদের দেশটী ছােট হতে পারে, কিন্তু আমাদের হৃদয় অনেক বড়ি, আমরা একেকজন বীর যােদ্ধা। ভােজিনহা গােলরক্ষক, কেপ ভার্দে গাজীপুরের গাছায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিসহ গ্রেপ্তার ৩ গাজীপুরে পুলিশকে হুমকির ঘটনায়- গাছা থানার ওসি ওয়াহিদুজ্জামানকে শাস্তিমূলক প্রত্যাহার গাজীপুরে ডিসির শত কোটি টাকার জমি জবরদখলের তথ্য সংগ্রহে গিয়ে হামলার শিকার সাংবাদিক 

সস্তা ড্রোনের মারপ্যাঁচে কুপোকাত দামী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৪৪:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬ ১৬৭ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জাকারিয়া হোসেন হিমেলঃ

ইরানের তৈরি সস্তা ড্রোনের আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলো এখন ভয়াবহ আর্থিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের মতো মার্কিন মিত্র দেশগুলো ইরানের এই স্বল্পমূল্যের প্রযুক্তির কাছে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে। মূলত যুদ্ধের ময়দানে শাহেদ সিরিজের ড্রোনগুলোর ব্যবহার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রচলিত হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিয়েছে।

​একটি শাহেদ-১৩৬ ড্রোন তৈরি করতে ইরান খরচ করে মাত্র ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার ডলার। অথচ এই একটি ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করতে যে ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়, তার একেকটির বাজারমূল্য প্রায় ২০ লাখ ডলার। এই বিশাল আর্থিক বৈষম্য প্রতিরক্ষা বাহিনীগুলোর জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে সামান্য মূল্যের আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে তাদের বিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে হচ্ছে।

​প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই অসম যুদ্ধের বাস্তব চিত্র সম্প্রতি বাহরাইনে ফুটে উঠেছে। মাত্র ৩০ হাজার ডলার মূল্যের একটি সাধারণ ইরানি ড্রোন ধ্বংস করে দিয়েছে প্রায় ৩০ কোটি ডলার মূল্যের একটি অত্যাধুনিক ৩৬০ ডিগ্রি নজরদারি রাডার সাইট। ২০০৪ সাল থেকে কার্যকর এই রাডারটি বিমান ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্তের প্রাথমিক সতর্কতা ব্যবস্থা হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

​কিংস কলেজ লন্ডনের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিভাগের প্রভাষক গেইস্ট পিনফোল্ড জানান, শাহেদ ড্রোনগুলো অত্যন্ত সস্তা এবং সহজে তৈরিযোগ্য হলেও এগুলো প্রতিহত করা কয়েক গুণ বেশি ব্যয়বহুল। আত্মঘাতী এই ড্রোনগুলোর মুখে উপসাগরীয় দেশগুলোর ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। পিনফোল্ডের মতে, এই সংকট নিরসনে দেশগুলোর সামনে এখন দুটি পথ খোলা আছে—হয় সরাসরি যুদ্ধবিরতিতে যাওয়া, অথবা বিদ্যমান প্রতিরক্ষা কৌশলে আমূল পরিবর্তন এনে আরও সক্রিয় পদ্ধতিতে অগ্রসর হওয়া।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

সস্তা ড্রোনের মারপ্যাঁচে কুপোকাত দামী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা

আপডেট সময় : ০২:৪৪:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

জাকারিয়া হোসেন হিমেলঃ

ইরানের তৈরি সস্তা ড্রোনের আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলো এখন ভয়াবহ আর্থিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের মতো মার্কিন মিত্র দেশগুলো ইরানের এই স্বল্পমূল্যের প্রযুক্তির কাছে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে। মূলত যুদ্ধের ময়দানে শাহেদ সিরিজের ড্রোনগুলোর ব্যবহার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রচলিত হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিয়েছে।

​একটি শাহেদ-১৩৬ ড্রোন তৈরি করতে ইরান খরচ করে মাত্র ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার ডলার। অথচ এই একটি ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করতে যে ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়, তার একেকটির বাজারমূল্য প্রায় ২০ লাখ ডলার। এই বিশাল আর্থিক বৈষম্য প্রতিরক্ষা বাহিনীগুলোর জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে সামান্য মূল্যের আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে তাদের বিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে হচ্ছে।

​প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই অসম যুদ্ধের বাস্তব চিত্র সম্প্রতি বাহরাইনে ফুটে উঠেছে। মাত্র ৩০ হাজার ডলার মূল্যের একটি সাধারণ ইরানি ড্রোন ধ্বংস করে দিয়েছে প্রায় ৩০ কোটি ডলার মূল্যের একটি অত্যাধুনিক ৩৬০ ডিগ্রি নজরদারি রাডার সাইট। ২০০৪ সাল থেকে কার্যকর এই রাডারটি বিমান ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্তের প্রাথমিক সতর্কতা ব্যবস্থা হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

​কিংস কলেজ লন্ডনের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিভাগের প্রভাষক গেইস্ট পিনফোল্ড জানান, শাহেদ ড্রোনগুলো অত্যন্ত সস্তা এবং সহজে তৈরিযোগ্য হলেও এগুলো প্রতিহত করা কয়েক গুণ বেশি ব্যয়বহুল। আত্মঘাতী এই ড্রোনগুলোর মুখে উপসাগরীয় দেশগুলোর ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। পিনফোল্ডের মতে, এই সংকট নিরসনে দেশগুলোর সামনে এখন দুটি পথ খোলা আছে—হয় সরাসরি যুদ্ধবিরতিতে যাওয়া, অথবা বিদ্যমান প্রতিরক্ষা কৌশলে আমূল পরিবর্তন এনে আরও সক্রিয় পদ্ধতিতে অগ্রসর হওয়া।