ঢাকা ০৯:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিআরটিএতে ‘প্রভাবশালী’ মোটরযান পরিদর্শক খ্যাত মামুনুর রশিদ এর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ গাজীপুর মহানগরেতে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী, নির্বিকার সিটি কর্পোরেশন রাজধানীতে নারী থেকে পুরুষ হওয়ার স্বপ্নে অপারেশনের পর মৃত্যু হয় লিজার গাজীপুর টঙ্গীতে মাদক নির্মূলের নামে বস্তি উচ্ছেদের অভিযোগ, বস্তিবাসীর বিক্ষোভ গাজীপুরের মৈরান ইনারপাড়ায় নিথর দেহের ওপর দিয়ে চলছে গাড়ি, পরিচয় সনাক্তের চে’ষ্টা গাজীপুরে ঘুমন্ত স্বামীর পুরুষাঙ্গ কাটার অভিযোগ স্ত্রীর বিরুদ্ধে গাজীপুরে বিএনপির ছত্রছায়ায় ঈদগাহ কমিটির আ’লীগ নেতারা গাজীপুর মহানগরে গাছা থানাধীন স্বর্ণ ব্যবসায়ীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার কারখানার ঝুট ব্যবসা ঘিরে গাজীপুরে তাণ্ডব, সাংবাদিককে কু/পি/য়ে জখমের অভিযোগ প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ও নিন্দা

রাজধানীতে নারী থেকে পুরুষ হওয়ার স্বপ্নে অপারেশনের পর মৃত্যু হয় লিজার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৪১:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

নারী থেকে পুরুষ হওয়ার স্বপ্নে অন্য এক যুবতীকে সঙ্গে নিয়ে প্রথম ধাপ স্তন অপারেশন করেছিলেন রোজি আক্তার লিজা (৩১) নামের এক যুবতী। অপারেশনের কয়েক ঘণ্টা পরে তার মৃত্যু হয়েছে।

 

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে চারটার দিকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে মৃত্যু হয়।

 

মৃত লিজা বরিশালের গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রব হাওলাদারের (রব রাজ) মেয়ে।

 

ঢাকার পান্থপথের ইউনিহেলথ স্পেশালাইজড হাসপাতালে গত ৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে অপারেশনের পর রোববার ভোর সাড়ে চারটার দিকে লিজার মৃত্যু হয়েছে। ওইদিন বিকেলে পরিবারের সদস্যরা লাশ নিয়ে আসলে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। পরবর্তীতে তড়িঘড়ি করে সন্ধ্যার মধ্যেই লিজাকে দাফন করা হয়েছে।

 

জানা গেছে, রোজি আক্তার লিজা মেয়ে হলেও ছেলেদের মতো আচরণ করতো। ছেলেদের মতো চুল কাটাতো। তার (লিজা) বাড়িতে ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা জেমিনি ওরফে জেনিফা আক্তার নামের এক যুবতীর আনাগোনা ছিলো।

 

প্রায় তিনবছর পূর্বে একই সম্পর্কে লিজা তার আপন ভাইয়ের স্ত্রীকে নিয়ে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমিয়েছিলো। পরবর্তীতে তারা পুনরায় বাড়িতে ফিরে আসে। এরপর জেনিফার সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিজার পরিচয় হয়। এরপর থেকে জেনিফা প্রায়ই লিজাদের বাড়িতে এসে মাসের পর মাস একসঙ্গে বসবাস করতো। বিষয়টি লিজার বাবা ও মা জানলেও জেনিফা কৌশলে তাদের আপন করে নেয়ায় তারা মুখ বুঝে সব সহ্য করে গেছেন।

 

জেমিনি ওরফে জেনিফা আক্তার জানিয়েছেন, তারা একে অন্যের বাসায় বেড়াতো। একসঙ্গে থাকতো। লিজা ঢাকায় হরমোনের চিকিৎসা করাতো। লিজার মা, বাবা ও বোন স্তন অপারেশনের জন্য দেড় লাখ টাকা দিয়েছেন। ওই টাকা দিয়ে গত ৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার পান্থপথের ইউনিহেলথ স্পেশাইলজড হাসপাতালে সরফরাজ নাম দিয়ে লিজাকে ভর্তি করা হয়। সেখানে অপারেশনের পূর্বে সম্মতিপত্রে লিজার স্ত্রী হিসেবে তিনি (জেনিফা) স্বাক্ষর করেছেন।

 

মৃত রোজীর বাবা আব্দুর রব হাওলাদার বলেন, ‘সে (জেনিফা) যে স্বাক্ষর করবে, তার স্বাক্ষরে যে অপারেশন হবে সে বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। এমনকি লিজার নাম যে সরফরাজ রাখা হয়েছে তা আজই কেবল জেনেছি।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘লিজা অপারেশন করে পুরুষ হয়ে জেনিফাকে বিয়ে করবে এমনটা ওর (লিজা) মায়ের কাছে শুনেছি।’

 

মৃত লিজার মা ফজিলা বেগম বলেন, ‘আমার মেয়ে লিজা ছোট বেলা থেকেই কোন ছেলেকে পছন্দ করতোনা। তাকে জোরকরে দুইবার বিয়ে দেয়া হয়েছিলো। কোনখানেই সে (লিজা) সংসার করেনি। ছেলেদের সঙ্গে সঙ্গ দেয়া কিংবা ঘর সংসার করার কোন মনমানসিকতাই তার ছিলোনা।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘদিন থেকে জেনিফা আমাদের বাড়িতে এসে লিজার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী হিসেবে বেড়াতো। যেকারণে লিজার অপারেশনের দায়িত্ব আমরা জেনিফার ওপর ছেড়ে দিয়েছিলাম।’

 

অন্যদিকে ইউনিহেলথ স্পেশাইলজড হাসপাতাল থেকে দেয়া মৃত্যু সনদে দেখা গেছে, গত ৩ সেপ্টেম্বর তাকে (লিজা) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সনদপত্রে লিজার নাম সরফরাজ এবং পুরুষ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

এ বিষয়ে জানতে মৃত্যু সনদপত্রে দেয়া হাসপাতালের নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে লিমন নামের এক ব্যক্তি নিজেকে এডমিন পরিচয় দেন। তার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জিএম-এর সঙ্গে কথা বলতে বলেন।

 

পরবর্তীতে ইউনিহেলথ স্পেশাইলজড হাসপাতালের জিএম বিশ্বজিত বৈদ্যের কাছে সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কৌশলে দায় এড়িয়ে যে ডাক্তারের অধীনে রোগী ভর্তি হয়েছে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।

 

সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ডা. মাহমুদুল হাসানের কাছে সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ব্যস্ততার অজুহাত দিয়ে পরে ফোন করবেন বলে সংযোগের বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন। এরপর তাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি আর ফোন রিসিফ করেননি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

রাজধানীতে নারী থেকে পুরুষ হওয়ার স্বপ্নে অপারেশনের পর মৃত্যু হয় লিজার

আপডেট সময় : ০২:৪১:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

নারী থেকে পুরুষ হওয়ার স্বপ্নে অন্য এক যুবতীকে সঙ্গে নিয়ে প্রথম ধাপ স্তন অপারেশন করেছিলেন রোজি আক্তার লিজা (৩১) নামের এক যুবতী। অপারেশনের কয়েক ঘণ্টা পরে তার মৃত্যু হয়েছে।

 

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে চারটার দিকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে মৃত্যু হয়।

 

মৃত লিজা বরিশালের গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রব হাওলাদারের (রব রাজ) মেয়ে।

 

ঢাকার পান্থপথের ইউনিহেলথ স্পেশালাইজড হাসপাতালে গত ৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে অপারেশনের পর রোববার ভোর সাড়ে চারটার দিকে লিজার মৃত্যু হয়েছে। ওইদিন বিকেলে পরিবারের সদস্যরা লাশ নিয়ে আসলে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। পরবর্তীতে তড়িঘড়ি করে সন্ধ্যার মধ্যেই লিজাকে দাফন করা হয়েছে।

 

জানা গেছে, রোজি আক্তার লিজা মেয়ে হলেও ছেলেদের মতো আচরণ করতো। ছেলেদের মতো চুল কাটাতো। তার (লিজা) বাড়িতে ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা জেমিনি ওরফে জেনিফা আক্তার নামের এক যুবতীর আনাগোনা ছিলো।

 

প্রায় তিনবছর পূর্বে একই সম্পর্কে লিজা তার আপন ভাইয়ের স্ত্রীকে নিয়ে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমিয়েছিলো। পরবর্তীতে তারা পুনরায় বাড়িতে ফিরে আসে। এরপর জেনিফার সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিজার পরিচয় হয়। এরপর থেকে জেনিফা প্রায়ই লিজাদের বাড়িতে এসে মাসের পর মাস একসঙ্গে বসবাস করতো। বিষয়টি লিজার বাবা ও মা জানলেও জেনিফা কৌশলে তাদের আপন করে নেয়ায় তারা মুখ বুঝে সব সহ্য করে গেছেন।

 

জেমিনি ওরফে জেনিফা আক্তার জানিয়েছেন, তারা একে অন্যের বাসায় বেড়াতো। একসঙ্গে থাকতো। লিজা ঢাকায় হরমোনের চিকিৎসা করাতো। লিজার মা, বাবা ও বোন স্তন অপারেশনের জন্য দেড় লাখ টাকা দিয়েছেন। ওই টাকা দিয়ে গত ৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার পান্থপথের ইউনিহেলথ স্পেশাইলজড হাসপাতালে সরফরাজ নাম দিয়ে লিজাকে ভর্তি করা হয়। সেখানে অপারেশনের পূর্বে সম্মতিপত্রে লিজার স্ত্রী হিসেবে তিনি (জেনিফা) স্বাক্ষর করেছেন।

 

মৃত রোজীর বাবা আব্দুর রব হাওলাদার বলেন, ‘সে (জেনিফা) যে স্বাক্ষর করবে, তার স্বাক্ষরে যে অপারেশন হবে সে বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। এমনকি লিজার নাম যে সরফরাজ রাখা হয়েছে তা আজই কেবল জেনেছি।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘লিজা অপারেশন করে পুরুষ হয়ে জেনিফাকে বিয়ে করবে এমনটা ওর (লিজা) মায়ের কাছে শুনেছি।’

 

মৃত লিজার মা ফজিলা বেগম বলেন, ‘আমার মেয়ে লিজা ছোট বেলা থেকেই কোন ছেলেকে পছন্দ করতোনা। তাকে জোরকরে দুইবার বিয়ে দেয়া হয়েছিলো। কোনখানেই সে (লিজা) সংসার করেনি। ছেলেদের সঙ্গে সঙ্গ দেয়া কিংবা ঘর সংসার করার কোন মনমানসিকতাই তার ছিলোনা।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘদিন থেকে জেনিফা আমাদের বাড়িতে এসে লিজার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী হিসেবে বেড়াতো। যেকারণে লিজার অপারেশনের দায়িত্ব আমরা জেনিফার ওপর ছেড়ে দিয়েছিলাম।’

 

অন্যদিকে ইউনিহেলথ স্পেশাইলজড হাসপাতাল থেকে দেয়া মৃত্যু সনদে দেখা গেছে, গত ৩ সেপ্টেম্বর তাকে (লিজা) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সনদপত্রে লিজার নাম সরফরাজ এবং পুরুষ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

এ বিষয়ে জানতে মৃত্যু সনদপত্রে দেয়া হাসপাতালের নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে লিমন নামের এক ব্যক্তি নিজেকে এডমিন পরিচয় দেন। তার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জিএম-এর সঙ্গে কথা বলতে বলেন।

 

পরবর্তীতে ইউনিহেলথ স্পেশাইলজড হাসপাতালের জিএম বিশ্বজিত বৈদ্যের কাছে সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কৌশলে দায় এড়িয়ে যে ডাক্তারের অধীনে রোগী ভর্তি হয়েছে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।

 

সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ডা. মাহমুদুল হাসানের কাছে সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ব্যস্ততার অজুহাত দিয়ে পরে ফোন করবেন বলে সংযোগের বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন। এরপর তাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি আর ফোন রিসিফ করেননি।