ঢাকা ০৯:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাউবির এমএসএস প্রোগ্রামে প্রথমবারের মতো তৃতীয় লিঙ্গের শিক্ষার্থীর ডিগ্রি অর্জন গাজীপুরের গাছায় দারুল হেদায়া কওমী মাদ্রাসার ৬ ছাত্রকে বলাৎকার শিক্ষক ও পরিচালক গ্রেপ্তার মক্কায় মসজিদে ‘অনৈতিক কাজ’, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ২ বাংলাদেশির নাম প্রকাশ চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বিশিষ্ট সমাজ সেবক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন টঙ্গীতে মাদকের বিস্তার, বাড়ছে ছিনতাই-অস্ত্রের ব্যবহার ৯ মাসে ৪০২ মামলা, গ্রেপ্তার ৯৫৬; অভিযানের পরও থামছে না অপরাধ গাজীপুরে গণমাধ্যমকর্মীকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি বিআরটিএতে ‘প্রভাবশালী’ মোটরযান পরিদর্শক খ্যাত মামুনুর রশিদ এর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ গাজীপুর মহানগরেতে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী, নির্বিকার সিটি কর্পোরেশন রাজধানীতে নারী থেকে পুরুষ হওয়ার স্বপ্নে অপারেশনের পর মৃত্যু হয় লিজার গাজীপুর টঙ্গীতে মাদক নির্মূলের নামে বস্তি উচ্ছেদের অভিযোগ, বস্তিবাসীর বিক্ষোভ

মির্জাপুরে শিশু ধর্ষণের মূল্য দেড় লাখ টাকা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০৩:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ মার্চ ২০২৫ ১৬৬ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জাকারিয়া হোসেন হিমেলঃ

‎ধর্ষনের মতো অপরাধ করেও পার পেয়ে যাচ্ছে ধর্ষকরা।অধিকাংশ ঘটনাই ধামাচাপা পরে যাচ্ছে কোন না কোন কারনে।কারনগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রধান কারন হচ্ছে,স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যাক্তিদের হস্তক্ষেপ,ধর্ষক প্রভাবশালী হওয়ায়,রাজনৈতিক দলের হস্তক্ষেপ,ভুক্তভোগীর দারিদ্রতা সহ নানান কারন।তাই আবারো শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে কিন্ত স্থানীয়রা অর্থের বিনিময়ে তা ধামাচাপা দিয়ে দিয়েছে। তার মানে ধর্ষণ করলে কোন সমস্যা নেই,যদি ক্ষমতা ও টাকা থাকে।
‎
‎এই ধরনের ন্যাক্যারজনক ঘটনা ঘটেছে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার আজগানা ইউনিয়নের কুড়িপাড়া এলাকায়।ভুক্তভোগী শিশু ওই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা।তার বয়স কেবল মাত্র ১০ বছর।শিশুটি কেবলই দ্বিতীয় শ্রেনীতে পড়েন।এরই মধ্যে ওই শিশুর উপর নজর পড়েছিল ওই এলাকার নওসের মিয়ার ছেলে ফিরোজ মিয়ার (৪৫)।ফিরুজ মিয়া পেশায় একজন সিএনজি চালক।ধর্ষণ করার পর থেকেই সে এলাকায় প্রকাশ্যেই ঘুরাফেরা করছে।সে মনেই করছেনা ধর্ষণ একটি মারাত্মক অপরাধ।
‎
‎স্থানীয় ও ভুক্তভোগী ওই শিশুর মা জানান,ঘটনাটি ঘটেছে আজ থেকে প্রায় ২০-২২ দিন আগে।ঘটনাটি সত্য।ঘটনাটি ঘটার পর এলাকায় জানাজানি হওয়ার আগেই স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যাক্তিরা ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে।পরে স্থানীয় মাতাব্বররা ঘরোয়াভাবে বসে বিচার করেন।বিচারে রায় হয় দেড় লাখ টাকা ও কয়টা জুতার বাড়ি।শিশুটির মা জানান,দেড় লাখ টাকা জরিমানা করলেও আমি পেয়েছি মাত্র ৯২ হাজার টাকা।বাকী টাকা নাকি পরে দিবে বলেছে তারা।স্থানীয় সচেতনমহলের ব্যাক্তিরা জানান,ধর্ষণ করার পর তার শাস্তি দেড় লাখ টাকা হতে পারে না,এটা অন্যায়,তাও আবার বাকী।বিষয়টা হাস্যকর,হলেও সত্য।
‎
‎স্থানীয়রা জানান,ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে সহযোগিতা করেছেন ও ধর্ষণের বিচার করেছেন ভুক্তভোগী শিশুটির প্রতিবেশী নুর ইসলাম,বিএনপির নামধারী নেতা ইউনুস আলী,আলম হোসেন,খোরশেদ আলম,আব্দুল মালেক মিয়া সহ প্রমূখ।
‎
‎বিএনপির এক নামধারী নেতা বলেন,এটা এত বড় কোন বিষয় না যে এত বাড়াবাড়ি করতে হবে।তাই আপনারাও (সাংবাদিক) এটা নিয়ে আর বেশি বাড়াবাড়ি কইরেননা।
‎
‎ভুক্তভোগী ওই শিশুটির মা আরো জানান,আমার স্বামী প্রবাসে থাকায় আমি অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছি।স্থানীয়রা বিষয়টি সুষ্ঠু একটি মীমাংসা করে দেবেন এমন আশ্বাসের কারনে কোথাও অভিযোগ করিনি।ঘটনার দীর্ঘদিন পর বিচার করে অভিযুক্ত ওই ব্যাক্তিকে জুতার বাড়ি ও দেড় লাখ টাকা জরিমানা করেন।পরে আমাকে মাত্র ৯২ হাজার টাকা দেয় এবং বাকী টাকা পরে দেবে বলে আশ্বস্ত করেন।
‎
‎স্থানীয়রা আরো বলেন,অভিযুক্ত ধর্ষক সহ যারা তাকে বাচানোর জন্য সার্বিক সহযোগিতা করেছেন তাদেরকেও বিচারের আওতায় আনতে হবে। এইজন্য উপজেলা প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
‎
‎স্থানীয় ইউপি সদস্য সানোয়ার হোসেন জানান,ঘটনাটি আমি পরস্পর শুনেছি।পরে শুনলাম ওরা নিজেরাই আপোষ মীমাংসা করেছে।
‎
‎মির্জাপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা সালাহ উদ্দিন বলেন,এ বিষয়ে আমার জানা নেই।অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যাবস্থা গ্রহণ করব।
‎

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

মির্জাপুরে শিশু ধর্ষণের মূল্য দেড় লাখ টাকা

আপডেট সময় : ১০:০৩:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ মার্চ ২০২৫

জাকারিয়া হোসেন হিমেলঃ

‎ধর্ষনের মতো অপরাধ করেও পার পেয়ে যাচ্ছে ধর্ষকরা।অধিকাংশ ঘটনাই ধামাচাপা পরে যাচ্ছে কোন না কোন কারনে।কারনগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রধান কারন হচ্ছে,স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যাক্তিদের হস্তক্ষেপ,ধর্ষক প্রভাবশালী হওয়ায়,রাজনৈতিক দলের হস্তক্ষেপ,ভুক্তভোগীর দারিদ্রতা সহ নানান কারন।তাই আবারো শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে কিন্ত স্থানীয়রা অর্থের বিনিময়ে তা ধামাচাপা দিয়ে দিয়েছে। তার মানে ধর্ষণ করলে কোন সমস্যা নেই,যদি ক্ষমতা ও টাকা থাকে।
‎
‎এই ধরনের ন্যাক্যারজনক ঘটনা ঘটেছে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার আজগানা ইউনিয়নের কুড়িপাড়া এলাকায়।ভুক্তভোগী শিশু ওই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা।তার বয়স কেবল মাত্র ১০ বছর।শিশুটি কেবলই দ্বিতীয় শ্রেনীতে পড়েন।এরই মধ্যে ওই শিশুর উপর নজর পড়েছিল ওই এলাকার নওসের মিয়ার ছেলে ফিরোজ মিয়ার (৪৫)।ফিরুজ মিয়া পেশায় একজন সিএনজি চালক।ধর্ষণ করার পর থেকেই সে এলাকায় প্রকাশ্যেই ঘুরাফেরা করছে।সে মনেই করছেনা ধর্ষণ একটি মারাত্মক অপরাধ।
‎
‎স্থানীয় ও ভুক্তভোগী ওই শিশুর মা জানান,ঘটনাটি ঘটেছে আজ থেকে প্রায় ২০-২২ দিন আগে।ঘটনাটি সত্য।ঘটনাটি ঘটার পর এলাকায় জানাজানি হওয়ার আগেই স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যাক্তিরা ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে।পরে স্থানীয় মাতাব্বররা ঘরোয়াভাবে বসে বিচার করেন।বিচারে রায় হয় দেড় লাখ টাকা ও কয়টা জুতার বাড়ি।শিশুটির মা জানান,দেড় লাখ টাকা জরিমানা করলেও আমি পেয়েছি মাত্র ৯২ হাজার টাকা।বাকী টাকা নাকি পরে দিবে বলেছে তারা।স্থানীয় সচেতনমহলের ব্যাক্তিরা জানান,ধর্ষণ করার পর তার শাস্তি দেড় লাখ টাকা হতে পারে না,এটা অন্যায়,তাও আবার বাকী।বিষয়টা হাস্যকর,হলেও সত্য।
‎
‎স্থানীয়রা জানান,ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে সহযোগিতা করেছেন ও ধর্ষণের বিচার করেছেন ভুক্তভোগী শিশুটির প্রতিবেশী নুর ইসলাম,বিএনপির নামধারী নেতা ইউনুস আলী,আলম হোসেন,খোরশেদ আলম,আব্দুল মালেক মিয়া সহ প্রমূখ।
‎
‎বিএনপির এক নামধারী নেতা বলেন,এটা এত বড় কোন বিষয় না যে এত বাড়াবাড়ি করতে হবে।তাই আপনারাও (সাংবাদিক) এটা নিয়ে আর বেশি বাড়াবাড়ি কইরেননা।
‎
‎ভুক্তভোগী ওই শিশুটির মা আরো জানান,আমার স্বামী প্রবাসে থাকায় আমি অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছি।স্থানীয়রা বিষয়টি সুষ্ঠু একটি মীমাংসা করে দেবেন এমন আশ্বাসের কারনে কোথাও অভিযোগ করিনি।ঘটনার দীর্ঘদিন পর বিচার করে অভিযুক্ত ওই ব্যাক্তিকে জুতার বাড়ি ও দেড় লাখ টাকা জরিমানা করেন।পরে আমাকে মাত্র ৯২ হাজার টাকা দেয় এবং বাকী টাকা পরে দেবে বলে আশ্বস্ত করেন।
‎
‎স্থানীয়রা আরো বলেন,অভিযুক্ত ধর্ষক সহ যারা তাকে বাচানোর জন্য সার্বিক সহযোগিতা করেছেন তাদেরকেও বিচারের আওতায় আনতে হবে। এইজন্য উপজেলা প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
‎
‎স্থানীয় ইউপি সদস্য সানোয়ার হোসেন জানান,ঘটনাটি আমি পরস্পর শুনেছি।পরে শুনলাম ওরা নিজেরাই আপোষ মীমাংসা করেছে।
‎
‎মির্জাপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা সালাহ উদ্দিন বলেন,এ বিষয়ে আমার জানা নেই।অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যাবস্থা গ্রহণ করব।
‎