ঢাকা ০৪:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গাজীপুরে চাঁদাবাজি ও হামলার অভিযোগে বহিষ্কৃত যুবদল নেতাসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা কারখানায় পানি পান করে হাসপাতালে শতাধিক শ্রমিক রুবেল সরকারসহ ৯ জনের নামে চাঁদাবাজির মামলা, অজ্ঞাত আরও ৩০ গাজীপুরে ৬৪ বোতল ফেনসিডিল ও ইয়াবাসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার গাজীপুরের টঙ্গীতে টিউমার অপারেশনের পর তরুণীর মৃত্যু, মাইশা হাসপাতাল নিয়ে নতুন প্রশ্ন ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা ম্যাচের সূচি_ বিশ্বকাপ ফুটবল_2026 গাজীপুরে সাংবাদিক পরিচয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে টাকা দাবি, বেরসিক ম্যাজিস্ট্রেট ৫ সাংবাদিককে দিলো ৩ মাসের জেল যারা ফুটবল খেলা বুঝে তারা ব্রাজিল করে অপু বিশ্বাস রাজধানীর রামপুরা এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিন খান পলাশ গুলিবিদ্ধ গাজীপুরে পোশাক কারখানায় আগুন,নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৫ ইউনিট

গাজীপুরের টঙ্গীতে টিউমার অপারেশনের পর তরুণীর মৃত্যু, মাইশা হাসপাতাল নিয়ে নতুন প্রশ্ন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৪৯:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর

গাজীপুরের টঙ্গীতে বেসরকারি মাইশা জেনারেল হাসপাতালে জরায়ুর টিউমার অপারেশনের পর সেলিনা খাতুন (২১) নামে এক তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এ ঘটনায় রোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে অপারেশনের পর জ্ঞান না ফেরার অভিযোগের পাশাপাশি আর্থিক সমঝোতার দাবিও করা হয়েছে।

সেলিনা খাতুন টঙ্গীর গোপালপুর এলাকার বাসিন্দা ও মোক্তার হোসেনের মেয়ে।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, গত সোমবার শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করলে সেলিনাকে টঙ্গী আহসানউল্লাহ জেনারেল হাসপাতালের বিপরীতে স্টেশন রোডের মাইশা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জরায়ুতে টিউমার রয়েছে জানিয়ে দ্রুত অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন।

স্বজনদের অভিযোগ, বিকেল চারটার দিকে চিকিৎসক ডা. মো. মনির হোসেন এবং অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত হাসপাতালটির মালিক ডা. মতিউর রহমান অস্ত্রোপচার করেন। তবে অপারেশনের পর সেলিনার আর জ্ঞান ফেরেনি বলে দাবি পরিবারের।

সেলিনার বাবা মোক্তার হোসেন বলেন, “আমার মেয়ের অপারেশন করার পর আর জ্ঞান ফেরেনি। পরে এলাকার কিছু মানুষের অনুরোধে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসা করেছি।”

ঘটনার পর হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয় বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর আগেও মাইশা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ উঠে এসেছে। যদিও এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, একটি অস্ত্রোপচারের পর রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় কেন আনুষ্ঠানিক তদন্ত হবে না। তাঁদের মতে, চিকিৎসায় কোনো গাফিলতি না থাকলে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া উচিত।

ঘটনার বিষয়ে জানতে হাসপাতালে গিয়ে কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল কাউকে পাওয়া যায়নি। হাসপাতালের মালিক ডা. মতিউর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমান বলেন, “আমি বিষয়টি শুনিনি, কেউ অভিযোগও করেনি।” হাসপাতালের কাগজপত্র সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “মাইশা হাসপাতালের কাগজপত্র ৩০ জুন পর্যন্ত বৈধ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে আগামীকাল অফিসে ডাকা হয়েছে।”

সেলিনা খাতুনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, চিকিৎসায় কোনো অবহেলা ছিল কি না এবং পরিবারের অভিযোগের সত্যতা উদ্‌ঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

গাজীপুরের টঙ্গীতে টিউমার অপারেশনের পর তরুণীর মৃত্যু, মাইশা হাসপাতাল নিয়ে নতুন প্রশ্ন

আপডেট সময় : ১১:৪৯:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর

গাজীপুরের টঙ্গীতে বেসরকারি মাইশা জেনারেল হাসপাতালে জরায়ুর টিউমার অপারেশনের পর সেলিনা খাতুন (২১) নামে এক তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এ ঘটনায় রোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে অপারেশনের পর জ্ঞান না ফেরার অভিযোগের পাশাপাশি আর্থিক সমঝোতার দাবিও করা হয়েছে।

সেলিনা খাতুন টঙ্গীর গোপালপুর এলাকার বাসিন্দা ও মোক্তার হোসেনের মেয়ে।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, গত সোমবার শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করলে সেলিনাকে টঙ্গী আহসানউল্লাহ জেনারেল হাসপাতালের বিপরীতে স্টেশন রোডের মাইশা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জরায়ুতে টিউমার রয়েছে জানিয়ে দ্রুত অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন।

স্বজনদের অভিযোগ, বিকেল চারটার দিকে চিকিৎসক ডা. মো. মনির হোসেন এবং অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত হাসপাতালটির মালিক ডা. মতিউর রহমান অস্ত্রোপচার করেন। তবে অপারেশনের পর সেলিনার আর জ্ঞান ফেরেনি বলে দাবি পরিবারের।

সেলিনার বাবা মোক্তার হোসেন বলেন, “আমার মেয়ের অপারেশন করার পর আর জ্ঞান ফেরেনি। পরে এলাকার কিছু মানুষের অনুরোধে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসা করেছি।”

ঘটনার পর হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয় বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর আগেও মাইশা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ উঠে এসেছে। যদিও এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, একটি অস্ত্রোপচারের পর রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় কেন আনুষ্ঠানিক তদন্ত হবে না। তাঁদের মতে, চিকিৎসায় কোনো গাফিলতি না থাকলে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া উচিত।

ঘটনার বিষয়ে জানতে হাসপাতালে গিয়ে কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল কাউকে পাওয়া যায়নি। হাসপাতালের মালিক ডা. মতিউর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমান বলেন, “আমি বিষয়টি শুনিনি, কেউ অভিযোগও করেনি।” হাসপাতালের কাগজপত্র সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “মাইশা হাসপাতালের কাগজপত্র ৩০ জুন পর্যন্ত বৈধ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে আগামীকাল অফিসে ডাকা হয়েছে।”

সেলিনা খাতুনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, চিকিৎসায় কোনো অবহেলা ছিল কি না এবং পরিবারের অভিযোগের সত্যতা উদ্‌ঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।